চাঁদপুরে সংবর্ধিত হলেন ১৬৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাসহ ১শ’ ৬৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওচমান গনি পাটোয়ারি। এ সময় সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে ও উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের নেতৃত্বে জেলা পরিষদে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারি দুলাল।
অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রব ভূঁইয়া, মো. মঞ্জুর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, ।
সংবর্ধিত অতিথিদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সাবেক চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবির বীর প্রতীক, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা ডা. বদরুন্নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর জেলা বিএলএফ কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটোয়ারি প্রমুখ।
সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত সালাহ উদ্দিন আহমেদ বীর উত্তমের স্ত্রী সামলাম আহমেদ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আজকে জেলা পরিষদের উদ্যোগে আমার স্বামীকে সংবর্ধিত করা হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা আসলে কোন অর্থ চাই না, চাই সম্মান। রাষ্ট্র, সমাজ যেন আমার স্বামীসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা সারা জীবন স্মরণ রাখে। এই স্বাধীন বাংলাদেশে কোন অবস্থাতেই যেন মুক্তিযোদ্ধারা অসম্মানিত না হয়। তাদের আত্ম ত্যাগের কথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবির বীর প্রতীক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে, তাহলে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানিত হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিয়ে তাই প্রমাণ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। বিভিন্ন সড়কের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্ররা এখনো চক্রান্ত করে যাচ্ছে। ভাস্কর্য ও মূর্তির অপব্যাখ্যা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করছে তারা। এই স্বাধীন বাংলায় কোন চক্রান্তকারীর স্থান হবে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা সহ্য করা হবে না। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করবে, তাদের হাত-পা ভেঙে বঙ্গোপসাগরে ফেলা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলা পরিষদের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানিত করতে পারলে মূলত নিজেদেরই সম্মানিত করা হয়। এর আগেও জেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। মনে রাখবেন, ভালো কাজে বাঁধা আসবেই। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান হয় এমন কোন কাজ এই বাংলার মাটিতে কাউকে করতে দেওয়া হবে না। স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিরা এখনো ওত পেতে বসে আছে। তাদের হুঁশিয়ারি করে দিতে চাই। বঙ্গবন্ধুর এই বাংলায় কোনো চক্রান্ত করা চলবে না। চক্রান্তকারীদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হবে না।