মাদ্রাসায় সরকারের প্রতিনিধি দিয়ে মনিটরিং সেল করার দাবি

মাদ্রাসায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করার দাবি জানিয়েছেন ভাস্কর্য শিল্পী ভাস্কর রাশা।

বুধবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে “অনুভূতি’র বাংলাদেশ” আয়োজিত জাতির পিতা’র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উচ্ছেদের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। 

প্রধান বক্তা হিসেবে ভাস্কর্য শিল্পী রাশা বলেন, পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা নাকি জাতির পিতার ভাষ্কর্য বুড়িগঙ্গায় ভাসাবে, এত বড় অপরাধ এর হুমকি দেওয়ার পরও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?  

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। 

বিশেষ বক্তা কামরুজ্জামান সুইট বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্য আঘাত করার সাহস দেখিয়ে তারা তাদের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন। আমাদের ধর্মানুভূতিকে পুঁজি করে সহজ-সরল মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। বাংলাদেশ এবং জাতির পিতার প্রশ্নে অনুভূতির বাংলাদেশ আগামী দিনেও এবারের মতো সব প্রগতিশীল সংগঠনকে পাশে নিয়ে সব অপশক্তির বিরদ্ধে রাজপথে সরব থাকবে। 

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি একত্রিত হয়ে এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের উৎখাত করব। দেশরত্ন শেখ হাসিনা আছে বলেই আমরা আজ শাহবাগে দাঁড়াতে পেরেছি, কিন্তু তারা চায় শেখ হাসিনাকেই ক্ষমতাচ্যুত করতে। পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের এই বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। 

তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় বাঘা যতীনের ভাস্কর্য যারা ভাঙচুর করেছে তারা আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা কেবল জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙার হুমকিই দিচ্ছে না, তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের পতনও চায়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তি সারাদেশে তাদের বিরুদ্ধে সর্বত্র সজাগ এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের প্রতিহত করব এটাই আমাদের অঙ্গীকার। এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা পাকিস্তানের এজেন্ট, পূর্বে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পিতারা এদের প্রতিহত করেছিল, আমরাও আজ এদের উত্তরসূরীদের প্রতিহত করবই ইনশাল্লাহ। 

সভাপতির বক্তব্যে শেখ রাসেল বলেন, আজকের সূচনা আয়োজনে আমাদের পাশে যারা দাঁড়িয়েছেন সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে “অনুভূতি’র বাংলাদেশ” সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 

এ সময় আগামী দিনে সব প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দেকে একত্রিত হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে অতীতের ন্যায় রাজপথে প্রতিহত করার আহবান জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন তিনি।

পরিচালনার বক্তব্যে মো. আরিফুজ্জামান রোহান বলেন, আমরা কখনও এই বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেব না এবং জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদের আস্তানা আমাদের বাংলাদেশে হবে না। আজ “অনুভূতি’র বাংলাদেশ” সংগঠন যে যাত্রা শুরু করেছে তা সামনের দিনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব শক্তিদের নিয়ে আরও বেগবান হবে ইনশাল্লাহ।

মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার ছাত্র ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একত্বতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে। 

আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন “অনুভূতি’র বাংলাদেশে"র শেখ রাসেল।