আবাসিক হল বন্ধ রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সংসদ ও শাখা ছাত্র মৈত্রী।
পৃথক সংবাদ বিবৃতিতে শুক্রবার শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা, স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা, পরিবহন সুবিধাসহ পরীক্ষা প্রস্তুতির সময় দিয়ে দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান দুই সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নুরুন্নবী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিক স্বাক্ষরিত সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, একাডেমিক কাউন্সিলে আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত। হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আবাসন সুবিধা পর্যাপ্ত নেই। এ ছাড়া পরীক্ষাকালীন মেস ভাড়া বহন করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আবাসিক হলগুলো খুলে না দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করোনা সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন। কিন্তু মেসে একই রুমে একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে সেখানেও করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা আরও বেশি। তাই আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা গ্রহণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
এ দিকে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ পাপ্পু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবাসিক সুবিধা ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে পরীক্ষা দেবে। এতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়বে। এ ছাড়া অর্ধেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। তাই রিভিউ ক্লাসের ব্যবস্থাপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আবাসিক হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা।
আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এর আগে ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় আবাসিক হল বন্ধ রেখে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ইবি কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করছে শিক্ষার্থীরা।