পর্ব ৮ : শিক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটির ভূমিকা
১. শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
জ্ঞান আহরণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির খুব কার্যকর ব্যবহার আছে। ১৯৯০ সালের প্রথম দিক থেকে আমাদের দেশে এই বিশ^মাধ্যমটির ধীরে, ধীরে; বিপুল ব্যবহার ঘটে চলেছে। এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো প্রয়োজনীয়, নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব। তাছাড়াও যেকোনো আগ্রহী পাঠক তার দরকারি বই ইন্টারনেটে পিডিএফ ফরম্যাটে পাবেন। আরও বলার বিষয় হলো, বিশে^র যেকোনো ভাষার বই এখন ইন্টারনেট দুনিয়াতে আছে। বিশে^র নামকরা লেখকদের বইগুলো আছে সেখানে। আমাদের বাংলা ভাষার বিখ্যাত লেখক যেমনআল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের বই ও অমর লেখাগুলো লেখা আছে বৈশি^ক এই সার্ভারে। অনেক ভালো লেখা অনুবাদ হয়েছে ইংরেজি, বাংলাসহ নানা ভাষায়। অনেকগুলোই পাওয়া যাবে। যেকোনো ভালো গবেষকের ভালো আবিষ্কার বা গবেষণাপ্রবন্ধ আছে এখানে।
সে প্রসঙ্গের বাইরেআমাদের লেখাপড়ার, নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পাঠের বিভিন্ন ধরনের, জটিল ও সহজবোধ্য শিক্ষার বিষয়বস্তু আছে তাতে। কোনো জটিল সমস্যার সমাধান রয়েছে উন্মুক্ত এই ক্ষেত্রে। ফলে শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক, মা-বাবার মতো তাদের পড়ালেখার নানা পাঠের সমাধান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে অতি সহজেই সংগ্রহ করতে পারছেন। তাদের পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তেমনভাবে যাবে।
এখন যেকোনো সমাজ সচেতন মানুষ, আগ্রহী শিক্ষক, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত সমাজের প্রথম সারির মানুষ; ভালো ছাত্র, ছাত্র বা ছাত্রী প্রয়োজনে তার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ করতে পারেন বা সেটি ব্যবহার করতে পারেন। তারপর তিনি তার সমস্যা বা জানার বিষয়টি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে খুঁজে পান।
শিক্ষকদের জন্য এই সুবিধা আরও অগ্রগামী হয়েছে এই কারণে যে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সিলেবাস বা কারিকুলাম, পাঠক্রম ও পাঠ্য বিষয়বস্তু, পড়ালেখার পদ্ধতি, ধ্যান, ধারণা ও পদ্ধতি জানতে পারছেন। সেগুলো পড়ে ও জেনে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, কৃষি ও সাংস্কৃতিক পরিম-ল, সমাজের সব স্তরের মানুষের আর্থিক ও মানসিক দিক বিবেচনা করে তুলনামূলক আলোচনা ও উপলব্ধি করা সম্ভব। পরে আমাদের দেশের উপযোগী করে, বৈশি^ক পরিম-লে পাঠক্রমগুলো তৈরি করা যায়। সেগুলোর বাস্তবায়ন ঘটে। তাতে ছাত্রছাত্রীসহ তার এবং পুরো দেশের মানোন্নয়ন ঘটে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা আইসিটির ব্যবহার এখন ভালোভাবেই করতে পারছেন বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ^বিদ্যালয়ে। সে ক্ষেত্রে তারা শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ লাভ করছেন। এভাবে তারা কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত ইন্টারনেটের অবারিত সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের পাঠ্য বিষয়গুলোকে নির্দিষ্টভাবে বৈশ্বিক পরিম-লে আলোচনা, পাঠ গ্রহণ ও নিজেদের জ্ঞানের বিকাশ লিখে বা অডিও-ভিজ্যুয়াল ফরম্যাটে পাওয়ার ও প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন। এভাবে তারা কম্পিউটার ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধাকে ব্যবহার করতে পারছেন। নিজেদের পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণ তৈরিতেও তাদের মাধ্যমটির অবিশ্বাস্য ও অবারিত ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে আছেন। সারা বিশে^র জ্ঞানভান্ডার, নামকরা শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তাদের আন্তঃযোগাযোগ ঘটছে। এভাবে নানাভাবে আমাদের দেশের সর্বস্তরের, গ্রাম-গ্রামান্তরের বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ সব শাখার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়গুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তাদের হাতিয়ার হয়েছেকম্পিউটার, ইন্টারনেট সুবিধা, ই-মেইল করা ও গ্রহণ, নানা ধরনের ফাইল ও অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের ডকুমেন্টেশন প্রসেসিং ও সেভাবে স্পেডশিট বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজ।
বাংলাদেশের সব মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনে আইসিটি, কম্পিউটার লার্নিং ইত্যাদি নানা নামে কম্পিউটার শেখানোর সরকারি ও প্রতিষ্ঠানের অনন্য উদ্যোগ রয়েছে। ভবিষ্যতের বৈশি^ক মানুষ ও আজকের আধুনিক মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রচন্ড কার্যকর।
বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রদূত হয়েছে মাধ্যমটি। কেননা অমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়ে এখনো ভালোভাবে কম্পিউটারই খুলতে পারেন না। ইন্টারনেট ব্যবহার তো দূরের কথা। বেশিরভাগেরই ই-মেইল আইডি নেই। কীভাবে করতে হয় তাও জানেন না। বাকিসব তো পরের কথা। তার অন্যতম কারণ হলোএখনো সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজালে ঘেরা তাদের জীবনের মতো প্রযুক্তির এই আশীর্বাদকে গ্রহণের সুবিধা। তাদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেয়েদের মাদ্রাসাগুলোতেও ইন্টারনেটের অবারিত ও কার্যকর ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া এই দেশের সর্বস্তরের নারীদের মেধা এবং মননেরও বিকাশে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ইন্টারনেটের ব্যবহারের মূল্য কম রাখা ও এক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতের বাংলাদেশে এবং বর্তমানের বিশ্বে অত্যন্ত সহায়ক, সুচিন্তিত ও সমাজ এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এভাবে শিক্ষিত হয়ে আগামী দিনের বিশ্বের উপযোগী নারীদের বিকাশ ঘটছে। তারা বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারছেন। এই দেশ ও বিশ^কে এগিয়ে দিচ্ছেন। নিজেদের অবদান রাখছেন।