নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাস্টের সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছে। এ সময় একপক্ষ অপরপক্ষের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাঙচুর করে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাওঘাট ঋষিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সালে গোকুল বাবু রায়ের ট্রাস্টের পক্ষের প্রমোথ নাথ রায়ের থেকে ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন সাওঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শের আলী ভুইয়া। একই জমি গোকুল বাবু রায়ের ট্রাস্টের পক্ষের নুকুল চন্দ্র রায়ের থেকে পাওয়ার ও বায়না সূত্রে মালিক হন সাওঘাট মধ্যেমনি ঋষিপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিদু বুষন দাস। গতকাল শনিবার দুপুরে এ জমি বালু ফেলে দখল করতে যান বিদু বুষন ও তার লোকজন। এ সময় বাধা দেন জমির আরেক দাবিদার শের আলীর ছেলে দিন ইসলাম, সিরাজ হোসেন, জহিরুল ও তাদের লোকজন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও তর্কবিতর্ক হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হন। এ সময় শের আলীর একটি পিকআপ, মোটরসাইকেল, দোকানপাটসহ বাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। পরে ওই সম্পত্তির দাবিতে বিদু বুষনের লোকজন গোলাকান্দাইল-আড়াইহাজার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মাহিন ফরাজি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। সাওঘাট মধ্যেমনি ঋষিপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিদু বুষন দাস বলেন, ‘সম্পূর্ণ বৈধভাবে সম্পত্তি পাওয়ার ও বায়না সূত্রে মালিক হয়ে সেখানে মন্দির করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়।’ শের আলীর ছেলে সিরাজ ভুইয়া বলেন, ‘আমার বাবা ১৯৯৬ সালে এই সম্পত্তি বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করেন। জমি আমাদের দখলে রয়েছে। জোরপূর্বক ও অন্যায়ভাবে তারা আমাদের জমি দখল করতে চাচ্ছে।’