প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করায় তুলি আক্তার (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে চাঁদপুর মডেল থানা-পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত যুবক জুনায়েদ মাঝি (২২)।
তুলি উত্তর বালিয়া গ্রামের দিনমজুর সোলেমান শেখের মেয়ে। স্থানীয় বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত জুনায়েদ একই গ্রামের কদর আলী মাঝির ছেলে। সে স্থানীয় জনতা বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতো।
তুলির বাবা সোলেমান শেখ জানায়, গত শনিবার মধ্যরাতে জুনায়েদ তার সহযোগীদের নিয়ে পেট্রোল ঢেলে আমাদের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন দেখতে পেয়ে আমরা ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন তাৎক্ষণিক পানি ঢেলে আগুন নিভায়। সঠিক সময়ে আগুন দেখতে পাওয়ায় আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেছি।
তুলির মা সখিনা বেগম জানান, ছেলেটি প্রায়ই আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। গত দুই বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারি এবং আমার মেয়েকে শাসন করি। এক বছর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করে দেন। এর পর থেকেই ওই ছেলে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম মিজি বলেন, ঘটনাটি জানার পরই ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনকে অবহিত করি। ছেলেটি বখাটে প্রকৃতির। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। আমি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানাই প্রশাসনের কাছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক জুনায়েদ গা ঢাকা দেওয়ায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁদপুর সদর সার্কেল) স্নিগ্ধা সরকার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। জুনায়েদ ও তুলির সঙ্গে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করায় এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে অভিযুক্ত যুবক। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।