আত্মসমর্পণের পরে জামিন এমপি পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে জামিন দিয়েছে আদালত।

রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে দুজন জামিন চাইলে বিচারক শর্তসাপেক্ষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলায় জামিন পেতে সম্প্রতি দুজন হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। উচ্চ আদালত তাদের ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুজন জামিন পেলেন। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি (সেলিনা ইসলাম) একজন সংসদ সদস্য। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে তাকে জামিন দিয়েছে আদালত। তবে জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে তার পাসপোর্ট জমা রাখতে  হবে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর পাপুল এবং তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

তাতে অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ কাগুজে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

এসব কাজে তাকে পাপুল এবং তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন। গত ২২ জুলাই সেলিনা ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এর আগে গত ২২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংককে দুদকের দেওয়া চিঠিতে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানানো হয়।

মানব পাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে পাপুলকে গত ৭ জুন গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। তদন্তর পর সেখানকার একটি ব্যাংকে জমা পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ফ্রিজ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ২৮ জানুয়ারি কুয়েতের আদালতে পাপুলের মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে।