আদালতে প্রধান আসামির জবানবন্দি

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় মাথা থেঁতলে শিশুকে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১১ বছরের শিশু আরাফাত হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান আসামি রিপন। বড় ভাই ও বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলছাত্র আরাফাতকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করে লাশ মসজিদের পুকুরে ফেলে দেয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে।

গতকাল রবিবার চার দিনের রিমান্ড শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহামুদুল মহসিনের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রিপন।

জবানবন্দিতে রিপন বলে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরাফাতের কলেজপড়ুয়া বড় ভাই সাক্ষী দিয়েছিল আর তার বাবা প্রতিবেশী প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় বাধা দেন। এর জের ধরে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে বন্দরের মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আরাফাতকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ইন্সপেক্টর আকুল চন্দ্র বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে জানান, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় রিপন জানায়, সে একাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। আরাফাতের বড় ভাই ছিনতাইয়ের সাক্ষী দেওয়ায় এবং তার বাবার সঙ্গে বিরোধের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সে আরাফাতকে খুন করেছে। রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গত শনিবার সকালে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ইট পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে বলেও জানান আকুল চন্দ্র।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাউসার এলাকার রফিকুল ইসলাম মনার ছেলে আরাফাতকে গত ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে বিজয় দিবসের একটি কনসার্টে নিয়ে যায় একই এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া। ওই রাতেই বাড়ির পাশে পুরাতন স্কুল ভবনে নিয়ে আরাফাতকে প্রথমে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। পরে গলা টিপে হত্যা করে মসজিদের পুকুরে লাশ ফেলে রিপন নিজেই পরিবারের সঙ্গে আরাফাতকে খোঁজাখুঁজি করে। পরে ১৮ ডিসেম্বর আরাফাতের লাশ ভেসে ওঠে।