বিনিয়োগ বন্ধনে চীন-ইইউ

চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি বাণিজ্য বিনিয়োগ চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শিগগিরই এ চুক্তি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোটা শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছে, যেটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। যদিও সম্প্রতি নানা দরকষাকষি শেষে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে ইইউ ও ব্রিটেন। তবে যুক্তরাজ্যের চলে যাওয়ার সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষতি সামলাতে বিকল্প চিন্তা আগেই করে ইইউ। এরই অংশ হিসেবে তারা চীনের বাজারে আগ্রহ দেখায়। চীনও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বিকল্প হিসেবে ইইউর প্রতি মনোযোগ দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিবিসি বলছে, কয়েক দিনের মধ্যে ইইউর সঙ্গে চীন বড়সড় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করবে। চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো চীনের বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তাদের বেশি সুবিধা দেবে পেইচিং। অবশ্য এ বিনিয়োগ চুক্তির আলোচনা শুরু হয় ২০১৪ সালে। এতদিন নানা মতপার্থক্যের কারণে তা থমকে ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উত্তেজনার কারণেই সম্ভবত পেইচিং ইইউর সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে তার অবস্থান বদলেছে। বিপরীতে ইইউও ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিপাকে পড়েছে। আর এসব কারণে দুপক্ষের আলোচনায় ব্যাপক গতি এসেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চুক্তি হলে ২৭ দেশের জোট ইইউর বিভিন্ন কোম্পানির জন্য চীনের উৎপাদন, নির্মাণ, বিজ্ঞাপন, বিমান চলাচল ও টেলিকম খাতের দরজা খুলে যাবে। এর বদলে ইউরোপের নবায়নযোগ্য জ¦ালানির একাংশে প্রবেশাধিকার মিলবে পেইচিংয়ের। এতদিন চুক্তিটি আটকে থাকার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ইইউর জ¦ালানি বাজারে চীনের প্রবেশাধিকার দাবি করা। স্পর্শকাতর এই ইস্যুর সঙ্গে বারবার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উঠে এসেছে।

চীনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সাধারণত চীনেরই কোনো কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে যেতে হয়। কিছু কিছু শিল্পে বিদেশি মালিকানার পরিমাণ সর্বোচ্চ কত হতে পারবে তাও সুনির্দিষ্ট রয়েছে। তবে সম্ভাব্য নতুন চুক্তিতে ইইউ কোম্পানিগুলোর জন্য এ ধরনের বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার বিধান রাখছে পেইচিং।

চুক্তি স্বাক্ষর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর হবে না। এটি আগে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে অনুমোদিত হতে হবে। পার্লামেন্টের ওই অনুমোদন প্রক্রিয়া ২০২১ সালের দ্বিতীয় ভাগের আগে শুরু হবে না বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।