অনেক দিন ঘরে থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খিটখিটে মনোভাব, অতিরিক্ত রাগ তৈরি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। সামান্য কিছুতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রবণতা আসে। এ রকম হতে থাকলে ট্রমাটিক ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে নির্দিষ্ট কিছু পরিচর্যা অত্যন্ত প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্ভব। শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে কী করণীয়
ছুটির এই সময়টাতে দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন না করে বরং সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। ঘুম, গোসল, খাওয়া, ব্যায়াম ও অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা ইত্যাদি সবকিছুই সঠিক সময়ে করা প্রয়োজন।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বিনোদনের মাধ্যম। অবসর সময়ে একটু সময় ব্যয় করা মানসিক দিক থেকে স্ট্রেস ফ্রি থাকা যায় সত্য, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে। তাই টিভি, ফেইসবুক বা এ-জাতীয় ডিভাইস সীমিত ব্যবহার করতে হবে।
আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্যসচেতন থেকে মনোবল শক্ত রাখতে হবে। করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে মানসিক দিক থেকে সচেতন থাকতে হবে।
দুঃসংবাদে আতঙ্ক না ছড়িয়ে বরং সবাইকে সহমর্মিতা দেখাতে হবে। করোনার প্রকোপ থেকে নিরাপদ থাকতে পরস্পরকে সহযোগিতা করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।
স্কুল চলাকালে তাদের সময়ের যে চক্রাকার ছিল, তা থেকে তারা অনেকটা মুক্ত, ফলে তাদের অনেকের অলস সময় কাটে। এ অবস্থায় তাদের কিছু বাড়তি কাজে ব্যস্ত রাখা দরকার। যেমন কবিতা আবৃত্তি করা, ছবি আঁকা, গৃহস্থালি কাজ করা, অনলাইনভিত্তিক উপকারী কোনো প্রশিক্ষণ নেওয়া।
দীর্ঘসময় বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা থাকার কারণে একাকিত্ব বোধ হতে পারে, যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় দিতে হবে। পরিবারের সবার সান্নিধ্য একাকিত্ব দূর হওয়ার অন্যতম উপায়।
সামাজিক যোগাযোগ রাখতে হবে। সুতরাং ফোন, ইমেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভিন্ন কোনো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
লেখাপড়া শিক্ষার্থীদের প্রধান কাজ। গতানুগতিক শ্রেণি কার্যক্রম না চললেও অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। অন্যান্য কাজের মতোই পড়াশোনার জন্য কম্প্রিহেনসিভ রুটিন করে নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসতে হবে।