কোয়ার্টারে সাইফের সঙ্গী বারিধারা

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলি উইঙ্গার আরিফ হোসেনের গোলে আরামবাগকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ আটে উঠে আসা সাইফ যে বড় রেসের ঘোড়া সেটা বোঝাই যাচ্ছে। এই গ্রুপ থেকে শেষ আটে সাইফের সঙ্গী হয়েছে উত্তর বারিধারা। দিনের প্রথম ম্যাচে তারা ব্রাদার্সকে ৩-০ লজ্জা দিয়ে কোয়ার্টার নিশ্চিত করে।

তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ সেরা সাইফ ২ জানুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ‘ডি’ গ্রুপ রানার্সআপের সঙ্গে। শেষ আটে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মোহামেডান। তবে সেটা নিশ্চিত করে জানা যাবে আজ আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচ শেষে। অন্যদিকে বারিধারা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে উঠে এসেছে কোয়ার্টারে।

বারিধারাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুরু। এরপর ব্রাদার্সের জালে ৬-১-এর গোল উৎসব। দুই জয়ের পর সাইফ কাল খেলেছে অনেকটা নির্ভার হয়ে। অন্যদিকে আগের ম্যাচে বারিধারার জয়ে সাইফকে হারানোর বিকল্প ছিল না আরামবাগের। মানে-গুণে পিছিয়ে থাকলেও আরামবাগের ভারতীয় কোচ সুব্রত চ্যাটার্জি দলকে খেলান আক্রমণাত্মক কৌশলে। বেলজিয়ান কোচ পল পুটের সাইফও ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। তবে প্রথমার্ধে সেভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। তবে বিরতির পর ঠিকই কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় সাইফ। সেই গোলে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তা ছিল বেশ। বিরতির পর বদলি হিসেবে নেমে আরিফ হোসেন বাঁপ্রান্ত থেকে গোলমুখে একটা ক্রস ফেলতে চেয়েছিলেন। সেই ক্রস আরামবাগের ডিফেন্ডার (১৪) মাথা ছুঁয়ে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। পিছিয়ে পড়ে আরামবাগ মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে ম্যাচে ফেরার। কিন্তু সাইফের গোলমুখ খোলা হয়নি তাদের। তাই এক জয় নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।

তিন ম্যাচে ব্রাদার্সের জালে ১১ গোল! ব্রাদার্স ইউনিয়নের এমন হতশ্রী রূপ দেখা যায়নি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। অন্তর্কোন্দলে দলটি নির্ধারিত সময়ের দু’দিন পর নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। ক্লাবের মতো মাঠের ব্রাদার্সও বড্ড ধূসর। তিন ম্যাচের টানা তিন হারে গ্রুপ থেকে ছিটকে গেছে গোপীবাগের দলটি। ১১ গোল হজমের বিপরীতে নিজেরা করতে পেরেছে মাত্র একটি। গতকাল ফেডারেশন কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে তারা ৩-০তে নাস্তানাবুদ হয়েছে উত্তর বারিধারার কাছে।

কাল ব্রাদার্স কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি সমশক্তির বারিধারার সামনে। ম্যাচটা বারিধারা আরও বড় ব্যবধানে জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। বিশেষ করে শুরুর ১০ মিনিটেই একাধিক গোল পেতে পারত বারিধারা। কিন্তু ফিনিশারদের ব্যর্থতায় গোল হয়নি। তবে ১৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় বারিধারা। ব্রাদার্স গোলরক্ষক মহিউদ্দিন রানুর দেওয়া বল ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার প্রকাশ দাস। ছুটে এসে বল লুফে নিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল লক্ষ্যে পাঠান উজবেক মিডফিল্ডার ইভজেনি কোচনেভ। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ২৬তম মিনিটে গোলের দেখা পান বারিধারার জাতীয় দলের তারকা সুমন রেজা। মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা আবদেল খালেকের পাস ধরে বক্সের ওপর থেকে ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তরুণ স্ট্রাইকার। ৬১ মিনিটে ৩-০ করেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহামেদ আবদেল রহিম।