বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কল্যাণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো তাদের কার্যক্রমকে আরও গতি দেবে এবং আরও বেশি সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
বুধবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সকল পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের কল্যাণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা বাহিনীকে তার কার্যক্রম পরিচালনায় আরও গতি এনে দেবে এবং তারা আরও বেশি সাফল্য অর্জনে করতে পারবে।’
দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের ২০২০ সালের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন আসাদুজ্জামান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চোরাচালান, মাদকপাচার, নারী ও শিশুপাচার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির সাফল্য প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদকের চোরাচালান রোধে বিজিবি বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ দেশ গঠনের বিভিন্ন কাজে এ বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিজিবির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে ও একে আধুনিক সীমান্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবির সাংগঠনিক কাঠামো এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও জনবল বাড়ানোর কাজ চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজিবির বিমান শাখা উদ্বোধন এবং দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন করে ইতোমধ্যে বিজিবিকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিজিবির এসব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে এ বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা ও কর্মস্পৃহা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আজ তাদের মনোবল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক উন্নত।
সরকারের সহযোগিতা বিজিবির সকল সদস্য ও তাদের পরিবার আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে আগামী দিনেও বিজিবির সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ এবং উদারতা অব্যাহত থাকবে।
২০২০ সালে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সকল বিজিবি সদস্য পদক পেয়েছেন তাদের আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানান বিজিবি মহাপরিচালক।
বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে চারটি ক্যাটাগরিতে এবার সর্বমোট ৫৯ জনকে পদক প্রদান করা হয়েছে।
পদক প্রাপ্তদের মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ১৯ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা (পিজিবিএমএস) প্রদান করা হয়েছে।
সূত্র: ইউএনবি।