জামালের ‘স্বস্তির’ হার!

ম্যাচের ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো দুলছিল দু’দলের দিকে। মাঠে খেলছিল শেখ রাসেল ও শেখ জামাল। রাসেলের কোয়ার্টার ফাইনাল আগেই নিশ্চিত ছিল। ভাগ্যের খেলাটা জামালের সঙ্গে চলছিল ‘এ’ গ্রুপের অপর দল পুলিশ এফসির। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে জামাল। রাসেলের কাছে ২-১ এ হারার পরও তারা চলে গেছে শেষ আটে। কাল পুলিশ চেয়েছিল শেখ রাসেলে ভর করে শেষ আটে যেতে। রাসেলও কম চেষ্টা করেনি। ম্যাচে কাক্সিক্ষত  জয়ও পেয়েছে। তবে জয়টা যে ব্যবধানে হলে পুলিশ টিকে থাকত সেটা হয়নি। দু’টি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পুলিশকে ছিটকে দিয়েছে গ্রুপপর্ব থেকে। বেশি গোল করার সুবাদে জামাল হয়ে গেছে ‘এ’ গ্রুপ রানার্স-আপ।

পুলিশকে হারিয়ে মিশন শুরু করা রাসেলের শেষ আট নিশ্চিত হয় জামাল-পুলিশের পয়েন্ট ভাগাভাগিতে। কাল তারা শুধুই গ্রুপসেরা হতে মাঠে নামে। জামাল আর পুলিশের জন্য হিসাবটা অত সহজ ছিল না। পরতে পরতে রং বদলানো ম্যাচে জামাল যখন ৩-১ এ পিছিয়ে তখনো পুলিশ ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের রেসে। কিন্তু ৮৯ মিনিটে রাসেলের কিপার আশরাফুল ইসলাম রানা পেনাল্টি উপহার দেন জামালকে। তা থেকে গোল করে হারের ব্যবধান ৩-২ এ নামিয়ে আনেন জামালের গাম্বিয়ান অধিনায়ক সলমন কিং। যা তাদের কোয়ার্টারে নিয়ে গেছে। ‘এ’ গ্রুপের তিন ম্যাচ শেষে রাসেলের থলেতে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট। জামাল আর পুলিশের সংগ্রহ সমান এক পয়েন্ট। হেড-টু-হেডেও সমতা। দু’দলের গোল গড়ও সমান। এরপর বিবেচ্য কোন দল বেশি গোল করেছে। তাতে দু’ম্যাচে চার গোল করা জামাল দু’গোল করা পুলিশকে পেছনে ফেলেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকা রাসেল এগিয়ে যায় ষষ্ঠ মিনিটে। কিরগিজ প্লে-মেকার বখতিয়ার দুইশবেকভের কর্নারে তাজিক ডিফেন্ডার সিওভুস আশশরভের হেড জাল খুঁজে পায়। ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাইজেরিয়ান প্লে-মেকার ওবি মোনেকে। একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সের ডান দিক দিয়ে ঢুকে দূরের পোস্টে নিখুঁত প্লেসিংয়ে জালের দেখা পান গত বছর মোহামেডানে খেলা এই নাইজেরিয়ান। বিরতির আগে ব্যবধান ঘোচানোর সুযোগ নষ্ট হয় জামালের। গাম্বিয়ান সুলায়মান সিলার কাটব্যাকে স্বদেশি সুলেমান কিংয়ের প্লেসিং সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৪৯তম মিনিটে ব্যবধান কমান সলমন কিং। উজবেক মিডফিল্ডার ভালি ওতাবেককে বক্সে ফাউল করেন রাসেল ডিফেন্ডার দিদারুল হক। পেনাল্টি থেকে স্বস্তির গোল করেন সলমন। ৫৯ মিনিটে অবশ্য জামালকে ফের দুশ্চিন্তায় ফেলেন রাসেলের বদলি ফরোয়ার্ড তখলিস আহমেদ। বামপ্রান্ত থেকে বখতিয়ারের ফ্রি কিক ব্রাজিলয়ান জিয়ানকারলো রড্রিগেজের মাথা ছুঁয়ে গোলমুখে এলে আলতো ছোঁয়ায় গোল করেন আব্দুল্লাহর জায়গায় মাঠে আসা তখলিস আহমেদ। ম্যাচটা এই অবস্থায় শেষ হলে পুলিশ চলে যেত কোয়ার্টারে। কিন্তু জামাল মরিয়া চেষ্টার সুফল পায় শেষ মুহূর্তে। ওমর জোবেকে বক্সের ভেতর ফেল দেন রাসেল কিপার রানা। সলমন দ্বিতীয়বারের মতো স্পটকিকে লক্ষ্যভেদ করে দলকে টিকিয়ে রাখেন আসরে।

১ জানুয়ারি প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে রাসেল খেলবে ‘সি’ গ্রুপ রানার্স-আপ চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে। আর জামালকে দু’দিন পর মোকাবিলা করতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের।