টিকটক লাইকি ও বিগো নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

টিকটক, বিগো লাইভ ও লাইকি মোবাইল অ্যাপস নিষিদ্ধ কিংবা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সচিব, তথ্য সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জে আর খান রবিন বলেন, টিকটক, বিগোর মতো অ্যাপস তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে। এসবের মাধ্যমে কিশোর ও তরুণরা সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চায়, নিজেকে জনপ্রিয় ভাবতে শুরু করে। এসব অ্যাপসের কারণে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিনষ্ট হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বেড়েছে। তারা অপরাধমূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সহিংস হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, টিকটক অ্যাপসের মাধ্যমে অনেক কিশোর-তরুণ, তরুণী উদ্ভট রঙে চুল রাঙিয়ে এবং ভিনদেশি অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে ভিডিও তৈরি করছেন, এতে সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট থাকে। এ ছাড়া স্বল্পবসনা তরুণীরা টিকটকের অশ্লীল ভিডিওতে নাচ, গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের ধূমপান ও সিসা গ্রহণ করার ভিত্তিও আপলোড করেছেন। এসব ভিডিওতে কোনো শিক্ষণীয় বার্তা নেই। উল্টো এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  তিনি জানান, বিগো-লাইভ অ্যাপসের মাধ্যমে তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে লাইভে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব এবং যৌনতার ফাঁদে ফেলে কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ-তরুণী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আইনজীবী জানান, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়। পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টের দারস্থ হলেন তিনি।