বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের শনাক্ত করতে কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করে বক্তব্য দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে কমিশন গঠনের বিষয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটির সভায় এ কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রুমিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য একটি কমিশন হবে। আমি বলেছি, এক্ষে ত্রে যেন রাজনীতিকরণ না হয়, সেটা দেখতে বলেছি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কারা কোথায়, কীভাবে পুনর্বাসন করছে, সেটা যথাযথভাবে যেন তদন্ত হয়, তা বলেছি।’
কমিটি বৈঠকে চার্জশিটের আগে হাজিরার অব্যাহতির বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থাও চায় কমিটি। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য কমিটির আগামী বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আরো বিস্তারিত ফলপ্রসূ আলোচনা করতে চাই। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কমিটির সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘অনেক মামলা বছরের পর বছর ধরে চলে, চার্জশিট দেওয়া হয় না। সাগর-রুনি হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়ার সময় ৭৭ বার পিছিয়েছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘অনেক মামলায় বেশিসংখ্যক আসামি করা হয়। শত শত আসামি করারও ঘটনা আছে। চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়ার আগে এত আসামির হাজিরা অব্যাহতি দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ ছাড়া ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ ল্যাব বাড়ানো এবং ডোপ টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব গঠনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বিচার দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মো. শামসুল হক টুকু, আব্দুল মজিদ খান, শহীদুজ্জামান সরকার, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, রুমিন ফারহানা, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।