আইপিও শেয়ার পেতে লাগবে ৩০ হাজার টাকা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) শেয়ার পেতে হলে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীকে অন্তত ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এর মধ্যে সেকেন্ডারি বাজারে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। আর প্রতিটি আইপিওতে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম চাঁদার পরিমাণ ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিও আবেদনকারী সব বিনিয়োগকারীকে আনুপাতিক হারে শেয়ার দিতে গতকাল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নিয়মিত সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে এ-সংক্রান্ত কমিটি আইপিওতে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকার শর্তারোপের প্রস্তাব করে। তবে কমিশন বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আইপিও আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে সেকেন্ডারি বাজারে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীর জন্য ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকার শর্তারোপ করে। এতে করে পুঁজিবাজারে নতুন করে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসবে বলে কমিশন মনে করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন নামে অধিকসংখ্যক বিও হিসাব খোলার প্রবণতাও বন্ধ হবে।

দীর্ঘদিন ধরে আইপিওতে একজন বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম চাঁদার পরিমাণ ৫ হাজার টাকা ধার্য রয়েছে। এ-সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, গতকালের কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম চাঁদার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা বা এর গুণিতক হবে। ব্যক্তিশ্রেণির একজন বিনিয়োগকারী একক ও যৌথ নামের বিও হিসাবে আইপিও আবেদন করতে পারবেন।

এসইসির এমন সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। পরিবর্তে আইপিওতে আবেদন করা সব সাধারণ বিনিয়োগকারী আনুপাতিক হারে শেয়ার পাবেন।

এসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আইপিও শেয়ার পাওয়ার এ ব্যবস্থাটি অনেকটা যোগ্য বিনিয়োগকারীদের আইপিও পদ্ধতির মতো হবে। নতুন এই পদ্ধতি আবেদনকারী ব্যক্তিশ্রেণির সব বিনিয়োগকারীকে আইপিও শেয়ারের নির্ধারিত একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে।

আনুপাতিক হারের অর্থ হচ্ছে একজন বিনিয়োগকারীকে তার আবেদনের একটি অংশ বা পুরো অংশ অনুসারে শেয়ারের একটি পরিমাণ বরাদ্দ করা। এটি প্রতিটি আবেদনকারীর বিনিয়োগকে ওভার সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণকে বিভক্ত করে এবং তারপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ফ্লোটিং শেয়ারের মোট ভ্যালু দ্বারা ফলাফল ভগ্নাংশকে গুণ করে গণনা করা হবে।

বর্তমান আইন অনুসারে স্থির মূল্যে আইপিওতে আসা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ থাকে, যার ১০ শতাংশ আবার এনআরবিদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হয়। আর এই পদ্ধতিতে আসার আইপিও শেয়ারের মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতে হয়, যার মধ্য থেকে মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০ শতাংশ করে শেয়ার বরাদ্দ থাকে।

যদি আইপিওতে অতিরিক্ত আবেদন (ওভার সাবস্ক্রাইবড) না হয়, সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ অনুযায়ী শেয়ার পাবেন। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি আইপিও আবেদনে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে জানা গেছে, যেখানে খুব বেশি তফাত থাকবে না।

বর্তমানে প্রাইমারি বাজার চাঙ্গা হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী রয়েছেন, যারা বিভিন্ন নামে শত শত বিও হিসাব পরিচালনা করে আইপিও আবেদন করে থাকেন। এমন প্রবণতা ঠেকাতে এসইসি আইপিও শেয়ারে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ রাখার শর্ত দেওয়া হলো।