মায়ের নিষেধ উপেক্ষা করে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাওয়া ২ বন্ধুর মৃত্যু

বছর শেষের রাতে ছেলে বায়না ধরে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর। তবে মা নিষেধ করেছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাই যেন কাল হলো প্রান্তিকের। সঙ্গে বন্ধু আলভীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে অকালে প্রাণ দিল দুই মেধাবী।

ঢাকার নবাবগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আনজির আহমেদ প্রান্তিক ও আলভী মেহেদী নামে দুই কলেজছাত্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রান্তিক (২০) রাজধানীর ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ও আলভী (২০) দোহার-নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নবাবগঞ্জ-ঢাকা আন্তঃমহাসড়কের কাশিমপুরে প্যারাগন হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তারা আহত হন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর তাদের মৃত্যু হয়।

জানা যায়, শনিবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলভীর মৃত্যু হয়। এর আগে একই দুর্ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রান্তিক। নিহত প্রান্তিক নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মহসিন উদ্দিন পলাশের ছেলে ও আলভী একই ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আজমের একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী প্রান্তিক ও আলভীর অকাল মৃত্যুতে শোকের মাতম এখন ওদের এলাকাজুড়ে। সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রান্তিকের লাশ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শনিবার বেলা ১২টার দিকে নিয়ে আসা হয় আলভীর লাশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রান্তিকের মা বারণ করা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার বছরের শেষ রাতে ঘনিষ্ঠ বাল্যবন্ধু আলভীর ডাকে সাড়া দিয়ে বাবার কাছ থেকে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে ঘুরতে বের হয় দুই বন্ধু। প্রান্তিক মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল আর আলভী পেছনে বসা ছিল। ঘোরাঘুরি শেষে রাত ১১টার দিকে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির ফেরার পথে কাশিমপুরে প্যারাগন হাসপাতালের সামনের আঞ্চলিক প্রধান সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরও একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তারা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখান থেকে তাদের রাজধানীর দুই হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. লিয়াকত জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

নিহতের বন্ধু সাব্বিরসহ আরো কয়েকজন জানান, প্রান্তিক ও আলভী যেমনি ছিল মেধাবী তেমনি নম্র-ভদ্র। ওদের মতো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এক কথায় ওরা ছিল অসাধারণ। ওরা যে এখন আমাদের মাঝে নেই বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, প্রান্তিক ও আলভী ছিল অত্যন্ত বিনয়ী। এক কথায় অমায়িক ও অসাধারণ।