ড্যান্ডি সেবন নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে ছুরিকাঘাতে খুন হয় কিশোর আরিফ (১৬)। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে মহাখালী এলাকা থেকে গত শুক্রবার রাতে ঘটনার সময়ই পিটুনি দিয়ে প্রধান সন্দেহভাজন জনিকে (১৮) পুলিশের হাতে তুলে দেয় এলাকাবাসী। সে পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া গতকাল শনিবার ভোরে আরিফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বনানী থানার ওসি নুরে আজম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে জনিকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আর আজ (শনিবার) সকালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’
বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে ড্যান্ডি সেবন নিয়ে গ্রেপ্তার জনির সঙ্গে হাসান (১৮) ও সোহাগ (১৭) নামে দুজনের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জনিসহ তার সহযোগীরা হাসান ও সোহাগকে ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর সোহেল নামে একজন সাততলা বস্তিতে আহত হাসানের ভাই রবিনকে খবর দেয় যে, হাসানকে জনি ও তার সহযোগীরা মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে মারধর করছে। এই খবর পেয়ে রবিন তার বন্ধু ছুরিকাঘাতে নিহত আরিফসহ আরও ৬/৭ জনকে নিয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের সামনে যায়। তারা জনি ও তার সহযোগীদের মারধর শুরু করে। এ সময় জনি ছুরি দিয়ে আরিফের বুকে দুটি আঘাত করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় আরিফকে (১৬) মেট্রোপলিটন হাসপাতাল নেওয়া হলে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আরিফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত আরিফের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।