বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন কুড়ি বছর বয়সী এক তরুণী।
এদিকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থানকালে প্রেমিকের চাচাতো ভাই গোলাম রব্বানী ওই তরুণীর হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেমিক বিয়ে না করা পর্যন্ত নিজের বাড়িতে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন ওই তরুণী।
এদিকে প্রেমিকা বাড়িতে আসার খবর শুনে পালিয়ে গেছে প্রেমিক যুবক। শনিবার থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই তরুণী।
ঘটনাটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলই শালশিঁড়ি ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে কালিয়াগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হবিবর রহমানের বাসার আঙিনায় অবস্থান করছেন ওই প্রেমিকা।
ওই তরুণী জানান, গত দেড় বছর পূর্বে প্রেমিক হবিবর রহমানের ছেলে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় প্রায় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় হান্নান। বিয়ে করবে এই শর্তে একপর্যায়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে প্রেমিক হান্নানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে তার।
প্রেমিকা অভিযোগ করে বলেন, কয়েকবার তার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে।
সম্প্রতি প্রেমিক হান্নানকে বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রেমিকা। তবে বিয়েতে প্রেমিক পরিবার রাজি হয়নি বলে জানান হান্নান।
গত ৩১ ডিসেম্বর সর্বশেষ হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইলে তার নম্বর ব্লক করে রেখেছেন। প্রেমিকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় আর কোন উপায় না পেয়ে ওই শিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন প্রেমিকা। বিয়ে না করলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন বলে সাংবাদিকদের জানান ওই তরুণী।
ওই তরুণীর বাবার দাবি, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ওই ছেলের সঙ্গে দেড় বছর ধরে সম্পর্ক, এখন বিয়ের কথা শুনে ছেলেটি বাড়ি থেকে পালিয়েছে। আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছি। আমার মেয়েকে যদি ছেলের পরিবার মেনে না নেয় তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নেব।’
আব্দুল হান্নানকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন বন্ধ তবে তার বাবা হবিবর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করে ওই তরুণীর আমার বাসায় অবস্থান করা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র। বর্তমানে আমার ছেলের খোঁজ পাচ্ছি না।
ঝলই শালশিরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের বলেন, ‘ফকিরপাড়া গ্রামের ওই তরুণী স্কুলশিক্ষক হবিবর রহমানের বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার। অভিযোগও করেছে। তবে যদি ছেলে পক্ষের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাহলে আমি বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেব।’