জি টু জি নয়, সেরামের সঙ্গে চুক্তি বাণিজ্যিক: বেক্সিমকো এমডি

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ভারত থেকে আনতে জি টু জি চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন।

যদিও এর আগে সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চুক্তি হয়েছে হয়েছে জি টু জি (সরকার থেকে সরকার)। 

করোনার টিকার চুক্তি নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান পাপন বিকেলে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে জি টু জির (বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সরকার) কোনো প্রশ্নই ওঠে না। মানে আমার জানা নেই। আপনারা যে জি টু জির কথা বলছেন, স্বাস্থ্যসচিব বলেছেন, উনি কোন ভ্যাকসিনের কথা বলছেন, আমি জানি না। এটা হতে পারে অন্য ভ্যাকসিন।

তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্টের অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে থাকতেই পারে আমার জানা নেই। এটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি।...ব্যাংক গ্যারান্টি সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সরকারের এটা পৌঁছে দিতে হবে। এখন বাকি আছে রেজিস্ট্রেশন। দেশে রেজিস্ট্রেশন কবে পাবে। আমরা ডকুমেন্ট আগেই জমা দিয়েছি বৃহস্পতিবার। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। এখন অনুমোদন কখন দেবে, তাদের ব্যাপার। এখন বাকি যেটা আছে সরকারের পক্ষ থেকে।’

তবে ওষুধ প্রশাসন অক্সফোর্ড-অ্যস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। 

নাজমুল হাসান বলেন, চুক্তি যেহেতু হয়ে গেছে, এটাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। এটা নিয়ে আজ সেরামের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি যে করোনার টিকা আসতে দেরি হতে পারে। সরকার যদি নিয়মকানুন মেনে দিয়ে দেয়, এক মাসের মধ্যে টিকা আসবে। এর নিয়ন্ত্রণের দিকটা বাংলাদেশ সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে করোনা টিকা দেওয়া যাবে উল্লেখ করে নাজমুল হাসান জানান, ‘এলসি বা অ্যাগ্রিমেন্ট যা হয়েছে, তা দিতেই হবে। ভারত সরকার যা বলেছে, তা লজিক্যাল, ওদের দেশের মানুষকে না দিয়ে রপ্তানি করা যাবে না। কিন্তু ভারত সরকার যা অ্যাপ্রুভাল দিয়েছে, ইমারজেন্সি ইউজ অথোরাইজেশন ফর ডমেস্টিক মার্কেট। এটা সব দেশে তাই লেখে। আমার ধারণা, ইট কুড বি ওয়ান ইন্টারপ্রিটেশন, এটা কেউ ভুল করছে। ওখানে কোথাও লেখা নেই যে এক্সপোর্ট করতে পারবে কি পারবে না। তবে এক্সপোর্টের ওপর একটি বার দিতেই পারে।’

নাজমুল হাসান জানান, ইতিমধ্যে করোনার টিকা পরিবহনের জন্য সাতটি গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষায়িত কুল বাক্স আনা হবে। ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় গুদাম তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘লজিক্যালি আমরা যে ব্যবসা করে আসছি, সেভাবে বলছি। এটা বাণিজ্যিক চুক্তি। আমরা শুধু সরকারকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’