শ্রমিক লীগের ইচ্ছায় ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণ

খুলনা মহানগরীতে কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বেড়েছে ইজিবাইকের ভাড়া। ভাড়া বাড়ানোর কোনো ক্ষমতা না থাকলেও খুলনা ইজিবাইক শ্রমিক লীগের সিদ্ধান্তেই আদায় হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। হঠাৎ করে এভাবে ভাড়া বাড়ানোয় যাত্রীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, মাঝেমধ্যেই যাত্রী ও চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। ভাড়া কমানো বা বাড়ানোর দায়িত্ব যাদের সেই সিটি করপোরেশন এই বিষয়ে জানে না কিছুই। 

সরেজমিনে গত রবিবার নগরীর গল্লামারী ও ময়লাপোতা মোড়ে বিভিন্ন ইজিবাইকে খুলনা ইজিবাইক শ্রমিক লীগের প্রস্তাবিত বর্ধিত ভাড়ার একটি তালিকা দেখা যায়। খুলনা ইজিবাইক শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী ইব্রাহীম মার্শাল এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান মিলন স্বাক্ষরিত ওই তালিকায় নগরীর বিভিন্ন রুটের নতুন ভাড়া উল্লেখ রয়েছে।

জানা গেছে, গল্লামারী থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেই ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। সোনাডাঙ্গা থেকে গল্লামারী পর্যন্ত ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। রূপসা ঘাট থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১০ টাকা সেখানেও এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ ও বয়রা বাজার পর্যন্ত নতুন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। আগে ছিল ৫ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দৌলতপুর থেকে কোর্ট এবং জেলখানা ঘাট পর্যন্ত। আগে যা ছিল ১০ টাকা।

নিরালার প্রান্তিকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, গল্লামারী থেকে নিরালা ও ময়লাপোতার ভাড়া আগে ছিল ৫ টাকা, এখন অটোতে উঠে নিরালা নামলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। কিছু বললেই উল্টোপাল্টা কথা বলছে চালকরা।

নগরীর আযম খান কমার্স কলেজের ছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, এক লাফে ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা হয়ে গেছে। সব শ্রেণির মানুষের কথা বিবেচনা করে ভাড়া বাড়ানো উচিত। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

ইজিবাইক চালক সাইদুর রহমান বলেন, আগে রাস্তায় নামলে একদিনে গাড়ি ভাড়া দিতে হতো ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আর এখন গাড়ি ভাড়া দেওয়া লাগে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। সব কিছুরই দাম বেড়েছে। সংসার চালাইতে হয়। ভাড়া না বাড়ালে আমরা চলব কীভাবে।

খুলনা ইজিবাইক শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান মিলন বলেন, আমরা একটি নতুন ভাড়ার তালিকা করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু যতক্ষণ সেই তালিকা কেসিসি মেনে না নেয় ততক্ষণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি কেউ সেই বর্ধিত ভাড়া নেয় সে দায়িত্ব তার নিতে হবে। সংগঠন এর জন্য দায়ী থাকবে না।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষমতা তাদের কে দিল? ভাড়া বাড়ানো বা কমানো আমরা করব। আমি তাদের বলে দিয়েছি কোনো ভাড়া বাড়বে না। করোনার সময় মানুষ নানা সমস্যায় আছে। ভালো আয় নেই। বাড়তি ভাড়া তারা কোথা থেকে দেবে।