এক কমিটিতে ৭ বছর বাড়ছে গ্রুপিং-বিভেদ

ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনেও এক হতে পারেননি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেছেন নগরীর পৃথক দুটি স্থানে। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এই দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদে কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৩ সালে গঠিত কমিটি নিয়েই চলছে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ। বিভেদন্ডবিভক্তির নেপথ্যে নতুন কমিটি না দেওয়াকে দায়ী করছেন তারা।

দীর্ঘদিন থেকে দুই ধারায় বিভক্ত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। তাদের একপক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং অন্যপক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষে একাধিকবার সংঘর্ষও হয়েছে। এমনকি গত বছরের ২৯ মে বর্তমান এই কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে নগর ছাত্রলীগের একাংশ।

ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর ছাত্রলীগের ২৪ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরের বছর জুনে ২৯১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। পরবর্তীতে নানা অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন রনি। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন জাকারিয়া দস্তগীর। কিন্তু সংগঠনের মধ্যকার চলমান বিভেদ থামেনি।

গত রবিবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে বর্তমান কমিটির সভাপতি ইমরান হোসেন ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের নেতৃত্বে এক গ্রুপ সিআরবিতে কেক কাটে, অন্যদিকে  নগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিথুন মল্লিক ও যুগ্ম সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেলের নেতৃত্বে আরেক গ্রুপ আন্দরকিল্লা মোড় থেকে আনন্দ র‌্যালি বের করে।

পৃথক কর্মসূচি পালন ও গ্রুপিং প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিথুন মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসলে এখানে নতুন করে বলার কিছু নেই। ওরা আমাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে না। তাই আগে থেকেই নগর ছাত্রলীগ দুই ভাগে বিভক্ত। তাছাড়া বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেছে। নতুন কমিটি করা দরকার। আমার নিজেরও পদে থাকাটা বিব্রতকর। কেননা, নতুন নেতৃত্ব উঠছে, তাদের ছেড়ে দেওয়া দরকার।’

তবে একাংশকে অবমূল্যায়নের বিষয়টিকে নাকচ করে দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেই। ওরা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করবে, সেটা তাদের বিষয়। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা অনুসারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করেছি। কমিটির মেয়াদ আছে কী নেই, তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যাই করে, তাই হবে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যা নির্দেশনা দেবে, তাই হবে।’

এদিকে মহানগর ছাত্রলীগ ছাড়াও চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগ, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগও পৃথকভাবে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করেছে।