দেশের ১৪ কোটি মানুষকে পর্যায়ক্রমে ডাবল ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেবে সরকার। করোনা মোকাবিলায় ছয় হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার কোভাক্স প্রকল্পের আওতায় এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জিএভিআই ও কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের যৌথ উদ্যোগে এই ‘কোভ্যাক্স’ কর্মসূচি পরিচালিত।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ছয় হাজার ৬১৪ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্টাকচার ব্যাংক। বাকি ১৭২ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।
কর্মসূচির লক্ষ্য হলো কোনো দেশ যেন করোনা ভ্যাকসিন মজুদ করে না রাখে এবং প্রতিটি দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোকে যেন প্রথম ভ্যাকসিন সেবা দেওয়া যায়।
গত বছরের এপ্রিলে প্রকল্পটি গৃহীত হয় এবং ২০২৩ সালের জুনে এটি শেষ হবে।
ভ্যাকসিনের জন্য ১১ পেশার মানুষ অগ্রাধিকার পাবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, মিডিয়া কর্মী এবং জন প্রতিনিধিরা।
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষ এই অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। তবে প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের টিকা দেওয়া হবে।
কোভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্পের আওতায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রায় চার হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়াও প্রকল্পের নথি অনুসারে স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম কেনার জন্য আরও এক হাজার ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।
দেশে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন অনুমোদন দেওয়ার একদিন পরই এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (এসআইআই) তৈরি এই ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ ক্রয়ের জন্য গতকাল ৫০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত মোট নয় কোটি আশি লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কোভ্যাক্স থেকে আসবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ এবং এসআইআই থেকে আসবে তিন কোটি ডোজ। দেশের চার কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে এই ভ্যাকসিন বিতরণ করা হবে।