এটা বিদ্রোহ, মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ: বাইডেন

মার্কিন কংগ্রেসে অধিবেশনের সময় নজিরবিহীন হামলাকে ‘বিদ্রোহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বিবিসি জানায়, নভেম্বরের নির্বাচনে জয় লাভ করা বাইডেনকে আগামী চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য বুধবার কংগ্রেসে এক অধিবেশনে বসেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

সেসময় ট্রাম্পের নামে স্লোগান দিয়ে তার সমর্থকেরা কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক নারী নিহত হয়েছেন।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাইডেন বলেন, ‘এই হামলা কোনো বিক্ষোভ নয়। এটি বিদ্রোহ। আমেরিকার গণতন্ত্র আজ আক্রমণের মুখে।’

তার শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান রক্ষায় এই অবরোধ অবসানের জন্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।    

এদিকে ট্রাম্প তার ভিডিওতে তার সমর্থকদের ঘরে ফেরার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি আবারো দাবি করেন, বাইডেনের ডেমোক্র্যাট দল নির্বাচন চুরি করেছে। যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তোমাদের বেদনা বুঝি, আমি জানি তোমরা কষ্ট পেয়েছ। তোমাদের এখন বাড়ি ফিরতে হবে, আমাদের শান্তি দরকার, আমরা চাই না কেউ আহত হোক।’

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের অধিবেশনে বসেন কংগ্রেস সদস্যরা। হামলা ও ভাংচুরের জন্য তীব্র নিন্দা জানান তারা।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে আজকের দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে উল্লেখ থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহিংসতা কখনো বিজয়ী হয় না। স্বাধীনতা বিজয়ী হয় এবং এটা এখনো জনগণের হাউজ। আমরা যেহেতু আবার এই চেম্বার শুরু করছি, বিশ্ব আবার একবার দেখবে যে, অভূতপূর্ব সহিংসতা এবং ভাংচুরের মধ্যেও আমাদের গণতন্ত্রের দৃঢ়তা এবং শক্তি কতটা মজবুত।’

ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সিনেট সদস্য বেন সাসে বলেন, ‘আজকের দিন ছিল নোংরা। আমাদের শিশুদের এদিনের কথা আমরা বলতে চাই না।’

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমার বলেন, ‘আমরা আমেরিকার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ৬ জানুয়ারিকে যুক্ত করতে পারি যে, এটি একটি কুখ্যাত দিন হয়ে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।’

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, এটি মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। তবে জো বাইডেনকে বৈধতা দেওয়া থেকে এটি আমাদের বিরত রাখতে পারবে না।’

রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, ‘আজকে মার্কিন কংগ্রেস বড় ধরনের হুমকির মুখে। তারা আমাদের গণতন্ত্রকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল। তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা শুরু করেছিলাম এখন সেটি শেষ করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সান্ধ্য আইন শুরু হবার পরও শত শত বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায়।