গ্রেপ্তারের আগে মাদক মামলার এক আসামির সঙ্গে ঢাকার দারুস সালাম থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামানের ফোনালাপের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি মিরাজ হাওলাদার ওরফে সোহাগের জামিন শুনানিতে এ অভিযোগ উঠলে বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট এ আদেশ দেয়। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ড. মো. বশির উল্লাহ।
এসআই রায়হানুজ্জামান বর্তমানে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় কর্মরত।
মামলার নথির বরাত দিয়ে আইনজীবীরা জানান, ২০১৮ সালের ৯ জুন রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাস সার্ভিসের কাউন্টার ম্যানেজার মিরাজ হাওলাদার সোহাগের কাছে হেরোইন ও ২১টি ইয়াবা উদ্ধারের পর তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। এ মামলায় বিচারিক আদালতে তার জামিন না-মঞ্জুর হলে আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন আসামি। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর শুনানিতে সোহাগের আইনজীবী একটি মোবাইল কললিস্ট আদালতে দাখিল করেন। সেখানে এসআই রায়হানুজ্জামানের সঙ্গে আসামি সোহাগের কথোপকথন রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ওই দিন এক আদেশে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে এসআই রায়হানুজ্জামানকে তলব করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সোহাগকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জামিন দেয় আদালত।
এরই ধারাবাহিকতায় রায়হানুজ্জামান বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেন, আসামি সোহাগ তার ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন, বিভিন্ন জায়গার মাদকের তথ্য দিতেন। এ বিষয়ে মাঝে-মধ্যে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা হতো। ব্যাখ্যা শোনার পর হাইকোর্ট এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ এবং সোহাগের জামিন তিন মাস বর্ধিত করে ৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
ডিএজি বশির উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসআই (রায়হানুজ্জামান) বলছে, আসামিকে ঘটনার দিন গাবতলী এলাকা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু একই দিনে আসামির সঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইলে কথোপকথন হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’