আবাহনীকে বিদায় দিয়ে ফাইনালে কিংস

জয়ের পর মাঠের মাঝখানে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলার-কর্তাদের উদযাপনটা হলো দেখার মতো। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজনকে মাঝখানে রেখে গোল হয়ে সে কী উদ্দাম নৃত্য! তারা যে ফাইনালের আগেই জিতে নিয়েছে আরেকটি ফাইনাল। ফেডারেশন কাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে তারা পেরিয়েছে আবাহনী বাধা। পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়ানো দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও কিংস জিতেছে ৩-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়ে দু’গোল করে তারা শেষ করে দিয়েছে আবাহনীর দ্বাদশ ফেডারেশন কাপ স্বপ্ন।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষটা হতে পারত আরও রোমাঞ্চকর। ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারত টাইব্রেকারে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১-এ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ১৯ মিনিটে এগিয়ে যায় কিংস। শেষ বাঁশির খানিকক্ষণ আগে আবাহনীর একটি গোল বাতিল হয় রেফারিদের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে। প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে মাঠ-আবাহনীর গ্যালারি। তাতে লাভ হয়নি। উল্টো ৯ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হওয়া ম্যাচে আরেক গোল করে আবাহনীর হতাশা বাড়ায় কিংস। তাদের তিন গোলের দুটি করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোনাথন ফার্নান্দেজ। অপর গোলটি আর্জেন্টাইন রাউল অস্কার বেসেরার। আগে আবাহনী প্রথম লিড নিয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ফ্রান্সিসকো তোরেসের গোলে।

শীর্ষ ফুটবলে অভিষেকের পর এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নাম লেখাল বসুন্ধরা কিংস। ২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রথমবার ফাইনালে আবাহনীর কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। পরেরবার অবশ্য রহমতগঞ্জকে হারিয়ে শিরোপা স্বাদ পায় দেশের ফুটবলের নতুন পরাশক্তিরা। এবার তাদের সামনে দ্বিতীয় ফেড কাপ জয়ের হাতছানি। রবিবার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারালেই সেই লক্ষ্য পূরণ হবে।

আগের তিন দেখায় কিংসের কাছে হারার পর আবাহনী কাল শুরু করেছিল রক্ষণ জমাট রেখে। তোরেসকে সামনে রেখে শুরু করা আবাহনীর বাকি ৯ জন রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। আবাহনীর রক্ষণাত্মক কৌশলে আক্রমণ গোছানোর যথেষ্ট জায়গা পেয়েছিল কিংস। তবে গোলটা আদায় করতে পারেনি। ম্যাচের ১২ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় বসুন্ধরা কিংস। বক্সের বাইরে থেকে ব্রাজিলিয়ান প্লেমেকার রবসন রবিনহোর ডান পায়ের শট আবাহনী কিপার শহীদুল আলম সোহেলকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পাঁচ মিনিট পর ইরানি ডিফেন্ডার খালিদ সাফির কাটব্যাকে বেসেরার প্লেসিং কোনোমতে ঠেকিয়ে নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখেন আবাহনী কিপার শহীদুল আলম সোহেল। উল্টো ৩১ মিনিটে ধারার বিপরীতে গোল হজম করতে হয় তাদের। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্ট ডিফেন্সচেরা থ্রু বাড়ান ফ্রান্সিসকো তোরেসকে। বক্সের ডানদিক দিয়ে ঢুকে কোনাকুনি শটে কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকোকে বোকা বানান এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ৪১ মিনিটে আবাহনীর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করেন জিকো। রায়হান হাসানের থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে সাদউদ্দিন ক্রস ফেলেন বক্সে। তোরেস ছোট ডি-বক্সে বল বুক দিয়ে রিসিভ করে তড়িৎ বাঁ পায়ে ভলি করেন। জিকো অবশ্য প্রস্তুত ছিলেন তা পাঞ্চ করে রুখে দিতে। বিরতির পর ষষ্ঠ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে ফিরেছে কিংস। বদলি মিডফিল্ডার আলমগীর কবির রানার পাস ধরে বক্সে ঢুকে অসাধারণ শট নেন জোনাথন। তার শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনের ভেতরে ড্রপ করে বাইরে এলে রাউল হেড করে বল জালে জড়ান। পরে গোলটা অবশ্য জোনাথনের থলেই গিয়েছে। ম্যাচের শেষ দশ মিনিট অবশ্য কিংসের রক্ষণে বারবার হানা দিয়েছে আবাহনী। ৮১তম মিনিটে রানার ভুল পাস থেকে ডি বক্সে বল পেয়ে সোহেল রানার কাছের পোস্টে নেওয়া জোরালো শট ফিস্ট করে ফেরান জিকো। এরপর ওয়ালি ফয়সালের কর্নারে নাসির উদ্দিনের হেড বাইরের জাল কাঁপায়। যোগ করা সময়ে তোরেসের ক্রসে বেলফোর্টের হেড বাইরের জাল কাঁপিয়েছে।

অতিরিক্ত সময়ে আবাহনী গোলকিপার সোহেলের সিদ্ধান্তহীনতায় এগিয়ে যায় কিংস। ১০৯ মিনিটে জোনাথনের ডিফেন্সচেরা থ্রু ধরে আগুয়ান কিপার সোহেলকে পরাস্ত করে কাটব্যাক করেন বদলি ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া। গোলমুখে সেই বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে জড়ান বেসেরা। পিছিয়ে পড়ে মরিয়া আক্রমণ করেছে আবাহনী। যোগ করা সময়ে গোলও পেয়ে গিয়েছিল তারা। বাদশার ক্রস বক্সের ভেতর তোরেস বুক দিয়ে নামিয়ে দেন। জিকো এগিয়ে এসে তা আয়ত্তে নেওয়ার আগেই জীবন বলটি জালে জড়িয়ে দেন। তবে সহকারী রেফারি ইকবাল আলম দেরি করে ফ্ল্যাগ তুলে অফসাইডের ইঙ্গিত দিলে রেফারি সুজিত ব্যানার্জি তা বাতিলের বাঁশি বাজান। এর প্রতিবাদে রেফারিদের সঙ্গে তর্কে জড়ান আবাহনীর ফুটবলার ও কর্তারা। ম্যাচ বন্ধ থাকে প্রায় ৯ মিনিট। এরপর খেলা শুরু হলে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে রবিনহোর কাটব্যাকে জোনাথনের ডান পায়ের প্লেসিং জালে জড়ালে আবাহনীর হতাশা বাড়ে।