আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনসহ ফ্যাক্টরী খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিক ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিল্প পুলিশের এক সদস্যকে মারধরের অভিযোগে থানা ছাত্রলীগ নেতা বাহার উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সানা সামিনুর রহমান।
এর আগে, একইদিন সকালে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সামনে শাহীন ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর সদলবলে হামলা চালায় ওই ছাত্রলীগ নেতা। তাদের বাধা দিলে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে তারা।
আটক বাহার উদ্দিন আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। আহত পুলিশ সদস্যের নাম আলমগীর।
শিল্প পুলিশ জানায়, আশুলিয়ার ডিইপিজেডের একটি কারখানার শ্রমিকদের ওপর বাহার ও আলমাস মুন্সির নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১০/১২ জনের একটি দল হামলা চালায়। সেখানে শিল্প পুলিশ (ইন্টেলিজেন্স) কনস্টেবল আলমগীর উপস্থিত থাকায় আলমাস মুন্সি ও বাহার উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন তাকে বাশ ও রড দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মারধর করে। পুলিশ পরিচয় দিয়েও রক্ষা পাননি তিনি। পরে সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং বাহারকে আটক করে।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সানা সামিনুর রহমান বলেন, ঘটনার পর বাহার উদ্দিনকে শিল্প পুলিশ-১ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া আহত পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সামিউল আলম শামিম বলেন, কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জেলা কমিটি। তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। আমি তাকে দলে জায়গা দেইনি। সে তদবিরের মাধ্যমে এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছে। তাছাড়া কারো ব্যাক্তিগত অপকর্মের দায় আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগ নিবে না বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে, তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় এক প্রবাসীকে আটক করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।