প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ও এর ব্যবহার নিয়ে বিপাকে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল পেয়ে আনন্দিত হলেও ধীরে ধীরে তা যেন বিষাদময় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের কাছে। ইমেইলটি নিজ নামের পরিবর্তে স্টুডেন্ট আইডি দিয়ে করায় মনোক্ষুণ্ণ শিক্ষার্থীরা। নিজ নামে আইডি না হওয়ায় পরবর্তীতে ব্যবহার ক্ষেত্রে ত্রুটি এবং হ্যাকিং সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অদ্ভুত একটি ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে রেখেছে। যা কারও কাছে বলতেই সংকোচ হয়। সেই সঙ্গে কাউকে ইমেইল করলে সন্দেহ প্রকাশ করেন স্পাম মেইল কি-না।’

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি চাওয়া পূরণ হতে যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল সুবিধা চালু হওয়ার মাধ্যমে। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। তবে ইমেইলটি স্টুডেন্ট আইডি দিয়ে হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে ত্রুটি হতে পারে। সচরাচর প্রাতিষ্ঠানিক মেইলে যে বিশেষ সুবিধাগুলো থাকে, আমাদের এই মেইলে তার সবগুলোই সংযোজিত হবে বলে আশা করছি। মেইল অ্যাড্রেসে শিক্ষার্থীদের আইডি নম্বরের পাশাপাশি ইউনিক সংখ্যা ও নাম  সংযুক্ত করলে আরও ভালো হতো।’

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ হাসান বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল সুবিধা যেটা অনেক আগে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটা পরে পেয়েও আনন্দ লাগছে। তবে স্টুডেন্ট আইডির বদলে নাম দিয়ে করলে ভাল হতো। সচরাচর প্রাতিষ্ঠানিক মেইল আইডির শেষে ‘বফঁ’ থাকে। এটাতে না থাকায় সব সুবিধা পাব কি-না সেই বিষয়টি নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

জানা গেছে, ইমেইল সুবিধাটি গুগলের জি-সুইটের আওতায় সম্পূর্ণ ফ্রি-তে নেওয়া হয়েছে। অনেকগুলো মেইল একই সঙ্গে সক্রিয় রাখতে নামের পরিবর্তে স্টুডেন্ট আইডি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজসহ বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও অর্থ ব্যয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলে শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করেছে। এক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হয়েও ‘নির্ভরযোগ্য ও গুণগত’ মানের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল সরবরাহ করতে পারছে না কেন প্রশ্ন থেকেই যায়।

তবে শিক্ষার্থীদের এমন অদ্ভুত ইমেইল কেন দেওয়া হলো এবং সংক্ষিপ্ত আকারে শিক্ষার্থীদের ইমেইল করা যেত কি-না এ বিষয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেক্টরের কম্পিউটার প্রোগ্রামার হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে বেশি কিছু জানি না। আমাকে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই করেছি। এ বিষয়ে আমাদের পরিচালক স্যার ভালো জানেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ইমেইল এমনই হয়। নামসহ হয় শিক্ষকদের। যখন তারা শিক্ষক হবে তখন নামসহ হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল থেকে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায় আমাদের ইমেইল থেকেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। আমাদের ভিসি স্যার এটা অ্যাপ্রুভ করেছেন।’