‘অপরিকল্পিত’ ভাস্কর্য স্থাপনের অনুমতি পেল না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। তবে ‘অপরিকল্পিত’ এই ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রস্থাগারের সামনে ভাস্কর্য স্থাপনের কাজ শুরু করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী তাদের আলোচনার জন্য উপাচার্যের বাসভবনে নিয়ে যান। উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে ‘ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যায়নি’ বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা।   

এর আগে শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। 

তিনি জানান, ইতিমধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণের অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করা হয়েছে। 

তবে ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি তখনও অবগত ছিলেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান। 

পরে বিকেল ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ভাস্কর্যের ‘বেজমেন্টে’র কাজ শুরু হলে দুই সহকারী প্রক্টর এসে তাদের কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী সেখানে এসে তাদের আলোচনার জন্য উপাচার্যের কাছে নিয়ে যান। 

বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি দেননি। তবে আমরা ভাস্কর্য নির্মাণ করব। রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। 

বৈঠকের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রক্টর সাহেব ওদেরকে নিয়ে আসছিলেন। সুধী সমাজের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। তাদের আবেগ এবং অনুভূতি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক। তবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে। যথাযথ মর্যাদায় পরিকল্পনা মোতাবেক সেটি নির্মাণ ও স্থাপন করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে স্থান নির্বাচন করতে হয়।