এই দিনে

শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, বিচারপতি ও লেখক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯২৮ সালে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদের দয়ারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী জহিরউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন আইনজীবী। তার মাতার নাম গুল হাবিবা। হাবিবুর রহমান জঙ্গীপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে আইএ পাস করেন। সাতচল্লিশের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৫১ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উরস্টার কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে আধুনিক ইতিহাসে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬২ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে লিঙ্কনস ইন থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করেন। ১৯৫২ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। শিক্ষকতা ছেড়ে ১৯৬৪ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।  হাবিবুর রহমান ১৯৭৬ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৯০-৯১ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং ১৯৯৫ সালে প্রধান বিচারপতি পদে অভিষিক্ত হন। অবসর গ্রহণের পর ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। বহু মূল্যবান ও জনপ্রিয় গ্রন্থের রচয়িতা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৭ সালে একুশে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো, বাংলা একাডেমির ফেলো, লিংকন্স ইন-এর অনরারি বেঞ্চার ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।