রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমিতি বাজার এলাকায় সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০) ও শ্যালিকা শিমু আক্তারকে (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন রনি মিয়া।
রবিবার দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি বিপ্লব কিশোর শীল।
ওসি বলেন, অভিযুক্ত রনি আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি জনিয়েছেন, ইয়াসমিন তাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর অন্য ছেলেদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করত। বিষয়টি তিনি মানতে পারেননি। সে কারণে রনি ইয়াসমিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শ্যালিকা শিমুকে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আরও বলেন, রনি দাবি করেছেন প্রথমে বাসায় গিয়ে শিমুকে বলেন ইয়াসমিনকে বুঝিয়ে তার ঘরে পাঠাতে। কিন্তু সে রাজি হয়নি। তার সঙ্গে রাগারাগি করে, এক পর্যায়ে শিমু ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে থাপ্পড় মারে। এরপর রনি তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
রবিবার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন রনি। এর আগে শনিবার রাতে রনির বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিহতদের বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন।
গত শনিবার দুপুরে সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিনকে কুপিয়ে ও শ্যালিকা শিমুকে গলা টিপে হত্যা করেন রনি। ঘটনার পর তাকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রনি মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। এ কারণে ইয়াসমিন তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। তারপরও রনি বাসায় এসে তাদের বিরক্ত করত। ফের সংসার করার জন্য চাপ দিত।
তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসার এসআই জহিরুল বলেন, রনি প্রথমে শ্যালিকা শিমুকে গলা টিপে হত্যা করে কম্বল দিয়ে মুড়ে রাখেন। পরে সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন বাসায় ফিরে ছোট বোনকে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা করে। এই ফাঁকে রনি পেছন থেকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।