একটা সময় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল খেলোয়াড় কোটা। খেলাধুলায় ভালো হলেই সুযোগ মিলত ভর্তি হওয়ার। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলারও একটা পরিবেশ ছিল। সময়ের পরিক্রমায় সেই রীতি হারিয়ে গেছে। এখন আর খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির সুযোগ নেই। একইভাবে ভালো খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত, করপোরেট হাউজে চাকরির সুযোগও এখন নেই বললেই চলে। শিক্ষা ও জীবিকার এই দুই সুযোগ কমে যাওয়ায় খেলাধুলায় আগ্রহীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। যার কুফলটা টের পাচ্ছে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন। পাশের দেশ ভারত যখন এই দুটি জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে, তখন বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফ ক্রমশ নিম্নগামী। তাই এই জায়গায় গুরুত্ব দেওয়ার দাবি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেশনগুলোর অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরাম। গতকাল সোমবার ৮ দফা দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপি নিয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে খেলোয়াড় কোটা, করপোরেট সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন খেলার পৃষ্ঠপোষকতা করতে এগিয়ে আসতে সরকারি উদ্যোগ, পৃষ্ঠপোষকদের আগ্রহী করে তুলতে অনুদানের ওপর থেকে আয়কর তুলে নেওয়া, ফেডারেশনগুলোর অবদান বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, এনএসসি পুরস্কার নিয়মিতকরণ, এনএসসির বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়মিত আয়োজন, জাতীয় বাজেটে প্রশিক্ষণ খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ফেডারেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে নিয়মমাফিক নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার প্রচলন ঘটানোর দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সভা শেষে ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরামের সভাপতি আসাদুজ্জামান কোহিনূর বলেন, ‘খুব ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের কথাগুলো মন দিয়ে শুনেছেন এবং এসব বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ কোহিনূর তাদের দাবিগুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ বাড়লে তাদের অভিভাবকরাও আশ^স্ত হবেন এবং সন্তানদের খেলার মাঠে পাঠাতে আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে চাকরি নিশ্চয়তা থাকলে তাদের খেলাধুলা নিয়ে নেতিবাচক চিন্তাটা দূর হবে। বিভিন্ন খেলায় ভালো ভবিষ্যৎ নেই বলে যে খেলোয়াড় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা কেটে যাবে।’