‘ওবায়দুল কাদেরের ভাই হিসেবে বলতে পারছি, অন্যরা বললে কি টুটি টিপে ধরবে’

বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘‘ওবায়দুল কাদের সাহেব তার চাকরের সামনে বলে আমি নাকি স্বঘোষিত মেয়র প্রার্থী। তিনি আমার বিষয়ে বলেন, ‘সে তো আমার জোরে এগুলো বলে’। এগুলোতে আপনার (ওবায়দুল কাদের) সম্মানহানী হচ্ছে’’।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত কর্মী সভায় মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘সাংগঠনিক সম্পাদক, তিনি যে কথা বলেছেন এটা দলের জন্য ক্ষতিকর। মির্জা কাদের তো ওবায়দুল কাদেরের ভাই হিসেবে কথা বলে, না হলে কথা বলতে পারতো? তাহলে আমি ওবায়দুল কাদেরের ভাই হিসেবে বলেছি এটা আমি মানলাম। তাহলে অন্যরা বলতে পারবে না? বললে টুটি টিপে ধরবে এটা বোঝাননি’?

তিনি বলেন, ‘ডিসি, এসপি, নির্বাচন অফিসার এরা বুকড। এখানে ১০ ভাগ ভোট, এখানে অনিয়ম করা সুযোগ আছে। পোলিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসার দিয়েছে সবগুলো জামায়াত-বিএনপির। একটাও আওয়ামী লীগের নয় এবং হিন্দু যেটা দিয়েছে সেগুলোও হিন্দু রাজাকার। এগুলো সব পরিকল্পিতভাবে চলছে ঢাকা থেকে কিছু নেতাসহ, ওবায়দুল কাদের সাহেব কিছু বলেন না’।

‘ভোটের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আগে ষড়যন্ত্র হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে, গতকাল থেকে ষড়যন্ত্র কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে। দু’একজন কাউন্সিলর একরাম চৌধুরী থেকেও টাকা এনেছে। এটা হলো ভোট প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। এরা বুঝে গেছে যে, মানুষ কেন্দ্রে গেলে ভোট আমাকেই দেবে। এখন ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে। আর বিএনপির ২/১ জন কাউন্সিলর একটু ভালো অবস্থানে আছে, এদেরকে দিয়ে এরা যাতে জেতে, যদি ফেয়ার ভোট হয় এদেরকে জেতানোর জন্য একটা পরিকল্পনা করছে যাতে আমাদের দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ওরা হেরে গেলে মনে কষ্ট পাবে না? এর জন্য একরাম চৌধুরী কাল- নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনকে পাঠিয়েছে। কারণ হারুন সাহেবের সঙ্গে একরাম চৌধুরীর ভালো সম্পর্ক। কারণ বিএনপি প্রার্থী কামাল সাহেব ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের টাকা দিয়েছে। একরাম চৌধুরী এ টাকা পাঠিয়েছে’।

এরপর তিনি বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশনার সাহাদাত সাহেব আসার কথা আসে নাই। বিপদ! সত্য কথা বললে’।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করলে এটার প্রথমেই দায়দায়িত্ব নিতে হবে ওনাকে (ওবায়দুল কাদের) আমাদের নেতা। দ্বীতিয়ত সাহাদাত সাহেব, আমাদের এলাকার নির্বাচন কমিশনার, ডিসিএসপি, নির্বাচন অফিসার এদেরকে নিতে হবে’।

বিকেলে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী সভায় তিনি বলেন, ‘তারেক জিয়া, আমাদের নোয়াখালীর একরাম, ফেনীর নিজামের মত এরা মদ, জুয়া, চাকরি বাণিজ্য তারপর টেন্ডার বাণিজ্য থেকে আরম্ভ করে কোনোটা বাকি নেই। সেও (তারেক জিয়া) এগুলো করে। সে কীসের দেশের পরিবর্তন আনবে? সেও তো অপরাধীদের সর্দার। তাহলে আর লোক কোথায়? জামায়াত! জামাতে ইসলামের নাসের সাহেব আমাকে বলে, ভাগিনা, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় এসে কী করবে? এখনো সরকার গঠন করার মতো অবস্থা নেই। আরো ৫০ বছর জামাতে ইসলাম কোল বালিশ হয়ে থাকবে’।

‘তাহলে আর কে করবে? শেখ হানিাকেই করতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। বাপ কা বেটি। সে পারবে। পেরেছে। ইনশাহআল্লাহ পারবে’।

তিনি বলেন, ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলনকে কে মেরেছে? জাসদ মেরেছিলো। জাসদ আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করে। ওকে মেরে আন্দোন চাঙ্গা করেছিল। এখানেও এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। বিএনপির একটাকে মেরে দেবে, আওয়ামী লীগের একটাকে মেরে দেবে, দিয়ে এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চেষ্টা করবে। চোখ-কান খোলা রাখবেন’।

‘একটা কথা বলে দিচ্ছি, যদি রক্ত ঝরে, কোনো মানুষ মারা যায়, কারও বাড়িঘর জ্বালায়, যদি ভোট নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলে তাহলে এটার দায়িত্ব কাকে নিতে হবে? ওবায়দুল কাদের সাহেব এ এলাকার মন্ত্রী, এমপি আমার ভাই হলেও ওনাকে প্রথম নিতে হবে। আমি ঝুট কথা বলি না। ঝুট কথা বলে রাজনীতি করি না। দুই নাম্বারে সাহাদাত সাহেবকে নিতে হবে। তারপর ডিসি এসপি নির্বাচন অফিসারকে দায়িত্ব নিতে হবে’।

‘আমার এলাকার যে দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবে বিপদ আছে। আপনারা প্রতিপক্ষ দলের কারো পোস্টারে হাত দেবেন না। কেউ করলে আমার বিচার দেবেন। আমি বিচার করব। এগুলো সংঘাত লাগানোর জন্য নানা কায়দা করবে’।

এ সময় আওয়ামী লীগের উপজেলা, পৌরসভার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।