পাবনা পৌর নির্বাচন

এমপি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএনপির

পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও তার ছেলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ শামস রঞ্জনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো ফল মিলছে না বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে ক্রমাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাঁথিয়া ছেচানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চান তিনি। এরপর ৯ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সমাবেশে, ১১ ও ১২ জানুয়ারি সাঁথিয়ায় নৌকার প্রার্থী মাহবুবুল আলম বাচ্চুর নির্বাচনী সমাবেশে তিনি নৌকার পক্ষে প্রচার চালান। প্রতিটি ঘটনায় নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ধোপাদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন খান, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি খায়রুন্নাহার মিরু।

বিএনপি প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, কেবল সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু নন তার পুত্র যুবলীগ নেতা আসিফ শামস রঞ্জন ১১ জানুয়ারি প্রকাশ্য সমাবেশে নৌকায় ভোট না দিলে ভোটারদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। যে কোনো প্রক্রিয়ার নৌকাকে বিজয়ী করতে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিএনপি নেতারা দাবি করেন, সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু ও তার ছেলে রঞ্জনের উসকানিতে উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে সাঁথিয়া পৌর এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের নিকট দাবি জানাই। পাশাপাশি ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোরও দাবি জানাই।

তবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সত্য নয়, বরং বিএনপির কর্মীরাই আওয়ামী লীগ কর্মীদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছেন শামসুল হক টুকু।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মসূচি ও সরকারি অনুষ্ঠানে আমি বেশ কয়েকবার সাঁথিয়া গিয়েছি, মানুষের সঙ্গে কথাও বলেছি, তবে তা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে নয়। নির্বাচন প্রভাবিত করার কোনো চেষ্টা আমি বা আমার ছেলে করছি না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীন। আমি কোনো হস্তক্ষেপ করিনি। মিথ্যে অভিযোগের পুরোনো সংস্কৃতি থেকেই বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ করছেন।

সাঁথিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ তদন্তে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।