ভারতের নয়া কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলন নিয়ে অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য হেমা মালিনীর মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তাকে বিদ্রূপ করে কেউ কেউ বলছেন, তিনি একমাত্র কৃষক, যিনি কৃষকদের সমস্যা বোঝেন না।
লোকসভা নির্বাচনের আগে মথুরার সংসদ সদস্য হেমা মালিনী কাস্তে হাতে ধান কাটতে নেমে পড়েছিলেন ক্ষেতে। মাথায় ফসল চাপিয়ে হেঁটে যান আলপথ। ট্র্যাক্টরও চালিয়েছেন। ভোটে জিতে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর কৃষকদের সম্পর্কে সেই হেমারই উপলব্ধি— তারা কী চান, তা নিজেরাই জানেন না।
কৃষক আন্দোলন নিয়ে এত প্রচারের ঘনঘটা দেখে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমার বিস্ময়, “এই তিন কৃষি আইনে কী এমন আছে যে তাদের (কৃষকদের)এত সমস্যা হচ্ছে! সরকারের সঙ্গে এতবার কথা বলেও সমস্যার সমাধান করতে পারছেন না। আসলে ওরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কেউ তাদের এসব করতে বলছেন বলে। তারা কী চান, তা নিজেরাই জানেন না।”
গত ২৬ নভেম্বর থেকে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক। মূলত পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরাই রয়েছেন সেখানে। তাদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনেমা জগতের অনেক তারকা। এমনকি হেমার স্বামী অভিনেতা ধর্মেন্দ্র কৃষকদের সমর্থনে দিন কয়েক আগেই টুইটারে লেখেন, “আমার কৃষক ভাইদের এভাবে কষ্ট পেতে দেখে আমার খুব খারাপ লাগছে। সরকারের এ ব্যাপারে অবিলম্বে কিছু করা উচিত।”
মূলত বড় করপোরেট সংস্থাগুলোর হাতে তাদের ভাগ্য পুরোপুরি সঁপে দেওয়ার বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত যে ন্যূনতম সহায়ক মূ্ল্যের জোরে এত দিন কৃষিপণ্যের দাম কমানোর ক্ষেত্রে একটা সীমারেখা ছিল, নতুন আইনে সেই নিরপত্তার জায়গায় কিছুটা সমঝোতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তা ছাড়া চাল, ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজকে নিত্যপ্রয়োজনীয় তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ায় এগুলোর মজুতকরণের ওপর আর বাধা থাকবে না সংস্থাগুলোর হাতে। বেশি মজুতের ক্ষমতা নিয়ে তারা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করতে পারবে, চাপ দিতে পারবে কৃষকদের ওপর। তবে হেমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এগুলো তেমন সমস্যা নয়। কৃষকেরা এসব করছেন, স্রেফ অন্যের উসকানিতে।
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে সামনে আসতেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। হেমা মালিনীকে ব্যঙ্গ করে নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেছে আম আদমি পার্টিও। চাষের ক্ষেতে এ সংসদ সদস্যের ধানকাটার ছবি পোস্ট করে তারা লিখেছে, “একমাত্র কৃষক, যিনি কৃষকদের সমস্যা বোঝেন না।”