ষাটগম্বুজ মসজিদের দিঘিতে ৫২ সুন্ধি কচ্ছপ অবমুক্ত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের ঘোড়া দিঘির মিষ্টি (সাধু) পানিতে ৫২টি সুন্ধি কচ্ছপ অবমুক্ত করেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের।

বুধবার বিকেলে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মালিকানাধীন ষাটগম্বুজ মসজিদের ঘোড়া দিঘিতে এই কচ্ছপ অবমুক্ত করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক।

হারিয়ে যেতে বসা মিষ্টি পানির বিরল প্রজাতির এই কচ্ছ রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত সোমবার খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী নিরাপদ সরকারের দোকান থেকে বিক্রির সময় ৫৩টি সুন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)।

এ সময় কচ্ছপ বিক্রেতা নিরাপদ সরকারকে (৬৯) ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুরগির দোকানের আড়ালে কচ্ছপের ব্যবসা করছিলেন বলে অভিযোগ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের।

খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সময়ই আমরা কচ্ছপ, অতিথি পাখি এবং বিলুপ্ত প্রায় নানা প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছি। এই ধারাবাহিকতায় উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোকে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমরা ঘোড়া দিঘিতে কচ্ছপগুলোকে অবমুক্ত করা হলো।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ কিন্তু একটা ওয়েট ল্যান্ড। এখানে প্রাকৃতিকভাবেই কচ্ছপ ছিল। তবে যথেচ্ছ শিকারের কারণে এখন এগুলোর সংখ্যা কমে গেছে। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী এগুলো শিকার সম্পূর্ণ নিষেধ।

ষাটগম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশের এই ঘোড়া দিঘিতে বন বিভাগ কর্তৃক যে সুন্ধি কচ্ছপগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে তা, একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য রক্ষা করবে একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগ্রহেরও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই কচ্ছপগুলো এখানে ছাড়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে এগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা একটি বার্তা দিতে চেয়েছি। নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট হওয়া থেকে বাঁচানো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী যে কথাটি বলেন তারই একটি অংশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট অঞ্চল হিসেবে এখানে যেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকে সে জন্য আমরা সব সময় সোচ্চার থাকব। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একযোগে কাজ করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমরা কাজ করে যাব।