নবম-দশম শ্রেণি : রসায়ন

অধ্যায় : রসায়নের ধারণা

বর্ণনামূলক

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার ছাত্ররা, তোমরা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়েছো, যা নবম শ্রেণিতে তিনটি বিষয়ে বিভক্ত হয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান আর রসায়ন। মৌলিক বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান এই তিনটি শাখা ছাড়াও উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, অণুজীববিজ্ঞান, জ্যোর্তিবিজ্ঞান, মৃত্তিকা বিজ্ঞানসহ আরও অনেক শাখা আছে।

বিজ্ঞানের মৌলিক তিনটি শাখার মধ্যে রসায়ন অন্যতম প্রধান এবং সবচেয়ে পুরনো শাখা।

প্রাক-ঐতিহাসিককালের ব্রোঞ্জ যুগে তামার আকরিক থেকে তামা আহরণ করে তাকে টিনের সঙ্গে মিশিয়ে সংকর ধাতু ব্রোঞ্জ তৈরি করা হতো। এছাড়া প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তামা বা কপার, রূপা, টিন এসব ধাতুর ব্যবহার করে আসছে।

প্রাচীনকালে অ্যারিস্টটলসহ সব দার্শনিকেরা মনে করতেন পৃথিবীর সব পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস দ্বারা গঠিত। খ্রিস্টপূর্ব ৩৮০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাকে atom বা পরমাণু বলেন যা ভারতীয় বিজ্ঞানী কণাদ সমর্থন করেন কিন্তু অন্যদের বিরোধিতাতে এ মত প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।

মধ্যযুগের আরব দার্শনিকরা রসায়ন গবেষণাকে Alchemy নামে জনপ্রিয় করে তোলেন, বর্তমানের Chemistry এই chemi থেকেই এসেছে।

আধুনিক রসায়ন চর্চার হাতেখড়ি অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন, জন ডাল্টন নীলস বোর সহ আরও অনেক বিজ্ঞানীর হাত ধরে। অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলে।

আমরা যা কিছু দেখতে পাই, ছুঁতে পাই, যা কিছুর গন্ধ পাই সবকিছুই কোনো না কোনো পদার্থ; এসব পদার্থের গঠনবৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেয় রসায়ন। এছাড়াও পদার্থসমূহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পরিবর্তিত হয়ে আমাদের জন্য শক্তির জোগান দিচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য পদার্থ বায়ু, খাবার পানি, খাদ্যদ্রব, ওষুধ সামগ্রী ক্রিয়া কৌশল রসায়নের আলোচ্য বিষয়।

বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে রসায়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যেমন জীববিজ্ঞান এর শক্তির প্রধান রূপান্তর সালোকসংশ্লেষণ, পদার্থবিজ্ঞানের শক্তির রূপান্তর অণু পরমাণুর গঠন, আলোর বর্ণালি এবং ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের পেট্রোলিয়ামের উত্তোলন, বিশোধনে রসায়নের জ্ঞান প্রয়োজন।

আমাদের জীবনের সঙ্গে রসায়নের জ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রসায়নের প্রয়োগ আমাদের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ আরামপ্রদ করে তুলেছে রসায়ন। চিকিৎসায়, ওষুধ শিল্পে, খাদ্যে, বাসস্থানে, বস্ত্রশিল্পে, পরিবেশের এমনকি প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি অংশ দখল করে নিয়েছে রসায়ন।

অনুসন্ধান ও গবেষণা পারে বর্তমান পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে। নির্দিষ্ট কিছু ধাপে রসায়নের অনুসন্ধান ও গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাগারের মানোন্নয়ন ও সুষ্ঠুভাবে সতর্কতার সঙ্গে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার পরীক্ষাগারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক।

(বাকী অংশ আগামী সংখ্যায়)