অযোধ্যার রাম মন্দিরের চাঁদা নিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য চাঁদা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ইন্দোর, মান্দসৌর, উজ্জয়িনী-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম সমাজের নেতারা ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, রাম মন্দিরের চাঁদা তোলার মিছিল ইচ্ছা করে তাদের মহল্লা দিয়ে নিয়ে গিয়ে হিংসাত্মক প্ররোচনা চালানো হচ্ছে এবং মসজিদও ভাঙচুরের চেষ্টা হচ্ছে।

রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও এই সব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ও রাজ্যের বিজেপি সরকার তা জোরালোভাবে অস্বীকার করছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্ত হওয়ার পর গত আগস্টেই সেই মন্দিরের ভূমি পূজা সম্পন্ন হয়েছে, এখন চলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেই মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থসংগ্রহের কাজ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো বিভিন্ন সংগঠন বাইক মিছিলের আয়োজন করে মন্দিরের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেও শুরু করেছে।

মধ্যপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই সব মিছিল যখন মুসলিম মহল্লা দিয়ে যাচ্ছিল তখন এলাকাবাসী মিছিল লক্ষ্য করে পাথর বা ইট-পাটকেল ছুড়েছে বলে হিন্দুত্ববাদীরা অভিযোগ করছেন।

মুসলিম সমাজের নেতারা পাল্টা বলছেন, মিছিল থেকেই হিংসাত্মক প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে, এমন কী মসজিদের মাথায় উঠে মিনার ভাঙার চেষ্টা পর্যন্ত হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এই ধরনেরই তীব্র সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সাক্ষী ছিল ইন্দোরের কাছে চন্দন খেড়ি গ্রাম।

ওই গ্রামের সরপঞ্চ বা মোড়ল দিলনওয়াজ প্যাটেল বলছিলেন, “রাম মন্দিরের নামে চাঁদা তোলার মিছিল বের করে আসলে গোটা রাজ্যেই সাম্প্রদায়িক পরিবেশকে বিষিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এই সব মিছিলের উদ্দেশ্যই হলো মুসলিমদের ভয় দেখানো।”

“মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে, অথচ পুলিশ এই সব ঘটনায় শুধু মুসলিমদেরই আটক করছে— হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না।”

আরও বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে মসজিদের মাথায় চড়ে মিনার ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা হচ্ছে না।”

একই ধরনের ঘটনাটার অভিযোগ এসেছে মান্দসৌর বা উজ্জয়িনী জেলা থেকেও।

অন্য দিকে মালওয়া অঞ্চলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সোহন বিশ্বকর্মা দাবি করছেন, মুসলিমরা বাড়ির ছাদে আগে থেকেই পাথর জড়ো করে রেখে তাদের বিভিন্ন মিছিলে হামলা চালিয়েছে, আর সেই আক্রমণ ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত।

হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে এই সব ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। টিভি চ্যানেল এনডিটিভি দাবি করেছে, উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে যাদের আটক করা হয়েছে তারা সবাই মুসলিম।

ইন্দোর জোনে পুলিশের আইজি যোগেশ দেশমুখ কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাত দেখানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, দলের এমএলএ আরিফ মাসুদ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্যেই পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে উঠছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান যদিও আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘তারা যে-ই হোক না কেন’!

তবে রাম মন্দিরের জন্য চাঁদা সংগ্রহে যে কোনো বাধা দেওয়া হবে না, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বিশ্বাস সারং।

তিনি বলেন, “শ্রীরামচন্দ্র আমাদের আরাধ্য, আমাদের মান-সম্মান, জীবন। তার মন্দিরের জন্য অর্থসংগ্রহকে আমি চাঁদা তোলা বলতে রাজি নই, এটা হলো জাতীয় জনজাগরণ।”

“১৩০ কোটি ভারতীয়র সবার তো অযোধ্যায় যাওয়া সম্ভব নয়, তো তারা তো সেই আহুতিতে এভাবেই যোগদান করবেন, তাই না? সেই স্বপ্নে কেউ বাদ সাধতে আসলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।”