ফটোগ্রাফিতে প্রবল ইচ্ছা ছিল সিফাতের (২১)। ভারতে ফটোগ্রাফির উপর পড়ালেখার জন্য চেষ্টাও করছিলেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে একদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
১২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সিফাতকে (২১) সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এর পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় সিফাতের।
নিহত সিফাত কাচারীপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সিফাতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একদল মাদক ব্যবসায়ী নিজ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে সিফাতকে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন বলেন, কলেজছাত্র সিফাতকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি মোটরসাইকেল চালিয়ে চরঝিকড়ী থেকে ব্যাডমিন্টন ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে কাচারীপাড়া (নিজ গ্রামে) বড় মসজিদ এলাকায় আসামাত্র একদল সন্ত্রাসী রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে পথরোধ করে। হামলাকারীরা হাতুড়ি, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে আমাদের পিটিয়ে মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
তিনি জানান, হামলার সময় জীবন রক্ষার্থে মোটরসাইকেল রেখে আমি পালিয়ে গেলেও সিফাতকে দুর্বৃত্তরা হাতুড়ি ও ইট দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে করে ফেলে রাখে।
সিফাতের স্বজনরা জানান, স্থানীয়রা সিফাতকে প্রথমে পাংশা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জানুয়ারী রাত ৮টার দিকে সিফাতের মৃত্যু হয়।
সিফাতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ফটোগ্রাফিতে তার প্রবল ইচ্ছা ছিল। সে ভারতে ফটোগ্রাফির ওপর পড়ালেখার জন্য আবেদন করেছিল।
তার চাচা ইউনিভার্সিটি অব ডভেলেপমন্টে অল্টারনটেভি ইউডার শিক্ষার্থী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাতিজাকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সেলিম, হেলাল, রবিউল, রব্বান, আব্দুল্লাহ, আসাদুল, ইমরান, কালু, আকাশ, নিজাম, মেহেদীসহ ১২/১৫ জন মিলে হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করেছে। সিফাতের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্তের পর লাশ রাজবাড়ীতে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ওসি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।