জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে রাজা-রানীর পরিবর্তন হলো না। গতবারের মতো এবারও ট্র্যাকের রাজা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আর রানীর মুকুট মাথায় তুললেন শিরিন আক্তার। বঙ্গবন্ধু ৪৪তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ এককে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইসমাইল আর নারী এককে ১১.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শিরিন। জাতীয় ও সামার মিট মিলিয়ে টানা ১১ বার দেশের দ্রুততম মানবী হয়ে নিজের রেকর্ড আরও মজবুত করলেন সাতক্ষীরার শিরিন। আর এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার দেশের দ্রুততম মানব হলেন কুমিল্লার মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
গতকাল ১০০ মিটার ইভেন্টে সবাইকে পেছনে ফেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। কুমিল্লার এই যুবকের সাফল্যের পর প্রশ্ন ওঠে নারী এককেও একই অ্যাথলেটের সাফল্য দেখবে কি বাংলাদেশ? শেষ পর্যন্ত কোনো বৈপরীত্য না হয়ে নারী এককেও পুরনো সেরাকে পাওয়া গেল। তবে দ্রুততম মানবী শিরিন নিজের টাইমিংয়ের উন্নতি করলেও পেছনে হেঁটেছেন ইসমাইল। গত বছর জানুয়ারিতে জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে চট্টগ্রামে ঘাসের ট্র্যাকে ইসমাইল সময় নিয়েছিলেন ১০.৪০ সেকেন্ড, এবার ১০.৫৫। শিরিন চট্টগ্রামে দৌড় শেষ করেছিলেন ১২.১০ সেকেন্ডে, ঢাকায় ১১.৮০। তবে দুবারই হ্যান্ডটাইমিংয়ে সময় মাপা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
দৌড়ের শুরুতে শিরিন পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু ৬০-৭০ মিটারের পর থেকে অন্যদের পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিরিন ফিনিশিং মার্কে পৌঁছে যান সবার আগে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন ১২.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় ও বাংলাদেশ আনসারের কবিতা রায় ১২.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
ছেলেদের ১০০ মিটারে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন প্রথম হয়েও টাইমিং নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ, চট্টগ্রামের চেয়ে তিনি সময় নিয়েছেন ০০.১৫ সেকেন্ড বেশি। গত বছর নেপালে এসএ গেমসে ইসমাইলের টাইমিং ছিল ১০.৭৬ সেকেন্ড। ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রকিবুল হাসান। তিনি সময় নিয়েছেন ১০.৬০ সেকেন্ড। তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. হাসান মিয়া। তার টাইমিং ১০.৭০ সেকেন্ড।
দৌড় শেষে বিজয়ীর গৌরবে মাথা উঁচু মোহাম্মদ ইসমাইল জানালেন সাফ গেমসে স্বর্ণ জেতার স্বপ্ন, ‘এই পর্যায়ে এসে বলব সাফ স্বর্ণ জেতা সম্ভব। সাফ গেমসে যারা জিতেছেন, ওরা বাইরের দেশে দীর্ঘদিন অনুশীলন করেছে। আমাদের যদি বাইরের দেশে দীর্ঘদিন অনুশীলন করানো হয়, তাহলে আমরাও পারব।’ করোনাকালে অনুশীলনের প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সাফল্য ধরে রাখার তৃপ্তি ইসমাইলের, ‘করোনাকালে প্র্যাকটিস করায় অনেক বাধা ছিল। এই সময়ে দৌড়ে প্রথম হয়েছি, নিজে নিজে একটু সন্তুষ্ট যে দ্রুততম মানবের খেতাবটা ধরে রাখতে পারছি। আশা করি বাংলাদেশ গেমসে সময় কমাতে পারব। আমরা যেহেতু সার্ভিসেস, আমাদের অনেক সমস্যা থাকে। তার মধ্যে আমাদের অথরিটি অনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। প্লেয়াররা কীভাবে অনুশীলন করতে পারে সেদিকে খেয়াল রেখেছিলেন। অনেক নিয়ম-কানুনের মধ্যে আমরা অনুশীলন করেছি।’
টানা ১১ বার দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিন এ রেকর্ড গড়ার ধারাবাহিকতা না থামানোর প্রত্যয় জানালেন, ‘আমি নিজেই নিজের রেকর্ড বারবার ভেঙেছি। সুফিয়া ম্যামের ছিল টানা সাতবার, লাভলী আপার ছিল টানা সাতবার। সেটিকে টপকে আমি ১১-তে উন্নীত করেছি। বিউটি আপা কীভাবে ১৭ বার দ্রুততম হয়েছিলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে আমার ইচ্ছা আছে সুস্থ ও ফিট থাকলে আমার টানা রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করার।’
করোনার সময়ে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারেননি। তবুও এই আসরের টাইমিং নিয়ে সন্তুষ্ট শিরিন। তবে নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানবী হিসেবে দেখতে চান তিনি, ‘আমার কোচ আবদুল্লাহ হেল কাফি আরও ভালো টাইমিং আশা করেছিলেন। আমি মোটামুটি খুশি। সামনে বাংলাদেশ গেমস আছে। ওটাতে ইনশাল্লাহ আরও ভালো টাইমিং করতে চাই। ১০০ মিটারে আমার ইলেকট্রনিকস টাইমিং ১১.৯৯ সেকেন্ড। এটা বাংলাদেশেরও রেকর্ড (এসএ গেমস, ২০১৬)। আমার ইচ্ছা এই টাইমিংকে অতিক্রম করা। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্রুততম মানবী হতে চাই। এজন্য আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
শুক্রবার শুরু হলেও আজ বিকেলে জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৪ জেলা, ৮ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, বিকেএসপি, বিজেএমসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৫০ জন (পুরুষ ও মহিলা) অ্যাথলেট ও ১৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা দুটি গ্রুপে ৩৬ ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পুরুষদের ২২ ও মহিলাদের ১৪টি ইভেন্ট।