ইনজুরি সমস্যা ভারতকে জেরবার করে দিয়েছে। ব্রিসবেনের দলে নেই তাদের প্রধান দুই বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন। যে পাঁচ বোলার নিয়ে খেলছে ভারত তাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ৪ টেস্টের। এই অবস্থায় নবদীপ সাইনি পাঁচ ওভার বোলিং করার পর ইনজুরিতে পড়েছেন। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও ভারতীয় বোলাররা যে প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ৫ উইকেটে তুলে নিতে পেরেছেন তাই অনেক। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা ভালো, ফিল্ডাররা অনেকগুলো ক্যাচ না ফেললে স্বাগতিকদের অবস্থা করুণ হতে পারত। যাই হোক প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৫ উইকেটে ২৭৪ রান।
টেস্টে পঞ্চম সেঞ্চুরি পেয়েছেন মারনাস লাবুশেন। পঞ্চাশ থেকে একশো রান করেছেন যিনি মাত্র ৪০ বলে। মোহাম্মদ সিরাজের বলে ৪ মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর পর ১০৮ রান করে আউট হন তিনি। টস জিতে ব্রিসবেনে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওভারেই ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ সিরাজ। এরপর মার্কাস হ্যারিস মাত্র ৫ রান করে আউট হন। তার উইকেট তুলে নেন শার্দুল ঠাকুর। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারানোর পর অভিজ্ঞ লাবুশেন এবং স্টিভেন স্মিথ ধীরে ধীরে পার্টনারশিপ গড়তে শুরু করেন। তৃতীয় উইকেটে ৭০ রান যোগ করেন তারা। ৩৬ করে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে আউট হন স্মিথ। অভিষেক টেস্টে স্মিথের উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ভারতীয় অলরাউন্ডার পরে আর কোনো উইকেট পাননি। ম্যাচের ৩৬তম ওভারের সময় ইনজুরিতে পড়েন সাইনি। যে বল করার সময় তিনি কুঁচকিতে ব্যথা পান সেই বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন ৩৭ রানে ব্যাট করা লাবুশেন। স্লিপে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। সাইনির অসমাপ্ত ওভারের শেষ বলটি করেন রোহিত শর্মা। মাঠ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর মাঠে ফিরলেও বেশিক্ষণ ছিলেন না। তার পরিবর্তে ফিল্ডিং করেছেন পৃথ্বি শ।
চতুর্থ উইকেটে লাবুশেন আর ম্যাথু ওয়েড ১১৩ রানের জুটি গড়েন। এই জুটি ভাঙেন নেট বোলার হিসেবে ভারতীয় দলের সঙ্গে যাওয়া টি নটরাজন। ৪৫ রানে ওয়েডকে ফেরানোর পর তিনি লাবুশেনকেই আউট করেছেন। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে শেষের দিকে টেনেছেন টিম পেইন এবং ক্যামেরন গ্রিন। ষষ্ঠ উইকেটে ৬১ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ গড়েছেন তারা। দিন শেষে অজি অধিনায়ক পেইন ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তে অলরাউন্ডার গ্রিন ২৮ রানে ব্যাট করছিলেন। প্রথম দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া মোটামুটি ভালো অবস্থায় থাকলেও বুমরাহ এবং অশ্বিনহীন ভারতীয় বোলিং নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনি। ভারতীয় দলের রিজার্ভ বেঞ্চও প্রথম দিকে কাঁপিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। ৭.৫ ওভার বল করেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নবদীপ সাইনি। এরপর ৪ বোলার নিয়েই সারা দিন খেলতে হয়েছে সফরকারীদের। সিরাজ ১৯ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করেছেন। শার্দুল ১৮ ওভারে ৬৭ রানের বিনিময়ে মার্কাস হ্যারিসকে আউট করেন। অভিষেক টেস্টে ২ উইকেট নিয়েছেন টি নটরাজন। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ফরম্যাটে অভিষেকের মাধ্যমে যিনি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।