‘পড়া মনে থাকে না’ কিংবা ‘যা পড়ি তা-ই ভুলে যাই’, এই অভিযোগটি প্রায় সব শিক্ষার্থীর। কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে এ সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় জানাচ্ছেন রেজাউল করিম
পড়তে বসার আগে দশ মিনিট হাঁটা : পড়ার টেবিলে বসার আগে দশ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার আগে দশ মিনিট হাঁটাহাঁটিতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় দশ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই পড়া সহজে মনে রাখতে পড়তে বসার আগে দশ মিনিট হাঁটাহাঁটি করো বা হালকা ব্যায়াম করো।
পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা : কোনো বিষয়ে আগ্রহ না থাকলে সেটি মানুষ তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। তোমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। হয়তো পড়া মনে থাকছে না অথচ অন্য অনেক জিনিস তোমার মনে থাকছে। খেয়াল করে দেখবে, ক্লাসের পড়া মনে না থাকলেও প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম, ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন, রেকর্ড সবকিছুই নিখুঁতভাবে মনে রাখতে পারছো। খেলা ও খেলোয়াড়ের প্রতি আগ্রহ থাকায় এগুলো মনে রাখা তোমার পক্ষে সম্ভবপর হয়েছে। তাই পড়া মনে রাখতেও পড়ার বিষয়টির প্রতি আগ্রহ তৈরি করো। পড়াকে কীভাবে আকর্ষণীয় করা যায় ভাবো। পড়াটা তোমার নিজের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেই সেটা সহজে মনে থাকবে।
মার্কার পেন দিয়ে দাগিয়ে পড়া : কালার পেন বা মার্কার দিয়ে মার্ক করে বা দাগিয়ে পড়া একটি চমৎকার কার্যকর কৌশল। মার্ক করার ফলে কোনো শব্দ বা বাক্যের প্রতি আকর্ষণ ও আগ্রহ বেড়ে যায়। তাছাড়া এর ফলে ব্রেইনের ভিজ্যুয়ালিটি ইফেক্টও বেড়ে যায় যা পড়াকে মনে রাখতে সহায়তা করে। পড়ার সময় লিখে লিখে বা এঁকে এঁকে পড়লেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
বারবার পড়া ও অনুশীলন করা : আমাদের ব্রেইন ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে যদি তা বারবার ইনপুট দেওয়া হয়। বারবার ইনপুট দেওয়ার ফলে ব্রেইনের স্মৃতি গঠনের স্থানে গাঠনিক পরিবর্তন হয় যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরিতে সাহায্য করে। তাই বারবার পড়া ও অনুশীলন করা পড়া মনে রাখার অন্যতম উপায়।
পড়ার জন্য সঠিক সময় নির্বাচন : অনেকেরই ধারণা সারা দিন-সারা রাত পড়লেই পড়া বেশি মনে থাকে। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। কারণ সবসময় আমাদের ব্রেন একইভাবে কাজ করতে পারে না। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে এবং বিকালের পর সন্ধ্যায় আমাদের ব্রেনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই সকালে এবং সন্ধ্যায় বা রাতে পড়া বেশি কার্যকর হয়।
পর্যাপ্ত ঘুম : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রেইন যেকোনো ইনফরমেশন বা তথ্যকে মেমরি বা স্মৃতিতে পরিণত করে ঘুমানোর সময়। তাই পড়া মনে রাখার জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোও জরুরি। সাধারণত একজন সুস্থ ব্যক্তির দিনে ৮ ঘণ্টার মতো ঘুমানো উচিত। এর থেকে কম ঘুমালে পড়া মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
যা শিখেছি তা অন্যকে শেখানো : পড়া মনে রাখার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই এ পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়। নিজে যা পড়েছি জেনেছি বা শিখেছি তা অন্যকে শেখানোর মাধ্যমে মস্তিষ্কে আরও ভালোভাবে গেঁথে যায়। তাছাড়া অন্যকে শেখানোর ফলে নিজের দক্ষতা প্রকাশ পায় এবং পড়াটি ভালোভাবে আয়ত্ত হয়েছে কি না তাও বোঝা যায়।