পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রের সীমান্তে এ ধরনের গণহত্যা চলতে পারে না: ফখরুল

সীমান্তে হত্যা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রে সীমান্তে এই ধরনের গণহত্যা চলতে পারে না’।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খবরের কাগজ খুললে দেখি যে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। একদিন না দুই দিন না, চলছেই বছরের পর বছর ধরে। পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রের সীমান্তে এই ধরনের গণহত্যা চলতে পারে না’।

শনিনবার অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখছেন যে, নির্বাচনগুলো কী হচ্ছে? পৌরসভা নির্বাচন শনিবার হয়ে গেল। প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা দখল করে নিয়ে গেল, ডাকাতি করে নিয়ে গেল। এমনকী খুন পর্যন্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জে একজন কমিশনার, তিনি প্রায় ৮৫ ভাগ ভোট পেয়ে জিতেছেন তাকে হত্যা করা হয়েছে’।

রবিবার বিকালে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক কমিটির এক সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, ‘এমনকী ইভিএম, যে ইভিএম নিয়ে তারা (সরকার) এখন ভোট করছে, এই ইভিএমের মধ্যে সম্পূর্ণ কারসাজি-কারচুপি তারা রাখছে। অর্থাৎ সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকেই তারা আজকে নষ্ট করে ফেলেছে। ওরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহারে করে তারা নিজেরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পোক্ত করবার জন্য’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুভার্গ্য আমাদের আজ ৫০ বছর পরে যখন আমরা সেই বছরটি পালন করতে যাচ্ছি আমরা দেখছি যে, আমাদের কোনো স্বাধীনতা নাই। আজকে আমাদেরে ন্যূনতম যে অধিকার, সংবিধানসম্মত যে অধিকার, সেই অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে, আমাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এদেশের মানুষকে তার কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এদেশের মানুষকে তার সংগঠন করবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে’।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি শ্রেণিকে বিপুল বিত্তের অধিকারী করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যের আরো অতল গহ্বরে চলে যাচ্ছে। আজকে আমাদের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠন করা হয়েছে, মানবাধিকার লুণ্ঠন করা হয়েছে। সেই কারণে এই সুবর্ণজয়ন্তীকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জনগণের সামনে, তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিলো ১৯৭১ সালে, সেই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা এখানে সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ এবং সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই-এই হবে আমাদের লক্ষ্য’।

তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য করেছি, আমাদের যে ন্যায্য অধিকারগুলো স্বাধীন দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা পাচ্ছি না। অন্যদিকে আমাদের প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই সরকার একটা নতজানু নীতি গ্রহণ করে তাদের কাছে সমস্ত সুবিধাগুলো দিয়ে দিচ্ছে। অথচ আমরা আমাদের যে সমস্যাগুলো আছে তার সমাধান করতে পাচ্ছি না। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন রাষ্ট্র নয়’।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করে নিজে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে সেক্টার কমান্ডার, ‘জেড’ ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি যখন এই দল প্রতিষ্ঠা করেন তখন রণাঙ্গনে যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারাই এই দলে বেশিরভাগ যুক্ত হয়েছেন। তাই আমরা দাবি করি, আমরা এমন দল করি যে দল স্বাধীনতার ঘোষকের দল এবং রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের দল।

ঢাকা বিভাগীয় সমন্বন কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারি দল একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। শুধু স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ও তার দলকে খাটো করার জন্যে তাদের (আওয়ামী লীগ) প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমরা অনবরত টেলিভিশনে তা দেখতে পারছি।

মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ফজলুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সভায় স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, আফরোজা খানম রীতা, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, আবুল কালাম আজাদ, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, হুমায়ুন কবির খান, তমিজ উদ্দিন, ফকির মাহবুব আলম স্বপন, মজিবরুর রহমান, এলাবার্ট পি কস্টা, শামসুজ্জামান সুরুজ, অপর্না রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, মেহেরুন নেছা হক, আকম মোজাম্মেল, এস এম কবির জিন্নাহ, আজহারুল ইসলাম মান্নান, মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভুঁইয়া, রবিউল ইসলাম রবি, মাজহারুল আলম উপস্থিত ছিলেন।