কানাডায় পালিয়ে থাকা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের সাক্ষাৎকার ও টকশোতে তাকে সংযুক্ত করার ঘটনায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভিকে সতর্ক করেছে উচ্চ আদালত।
একই সঙ্গে ওই টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আদালত অবমাননা সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ও দণ্ডিতদের বক্তব্য প্রচারে সতর্ক হতে বলেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকার্ট বেঞ্চ রবিবার এ আদেশ দেয়।
এর আগে ওই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ দাখিলের আদেশের পর গত ১০ জানুয়ারি এক আদেশে একাত্তর টিভির ব্যাখ্যা চেয়েছিল হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি হয়।
দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, একাত্তর টেলিভিশনকে সতর্ক করার পাশাপাশি দুদকের আবেদনটি নিষ্পত্তি করেছে হাইকোর্ট।
এছাড়া আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ও দণ্ডিতদের বক্তব্য প্রচারে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি পি কে হালদারের বিষয়ে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। দুদকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর এক আদেশে আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ও দণ্ডিত আসামির বক্তব্য, সাক্ষাৎকার গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি একাত্তরে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রচারিত পি কে হালদারের সাক্ষাৎকার এবং প্রচারিত টকশোর ভিডিও ক্লিপ তলব করে হাইকোর্ট।
পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গেস্নাবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহিভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কতৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পলাতক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে।