নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে এক পল্লী চিকিৎসককে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ১১জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মোল্লা গ্রামের আবদুল হোসেন মেকারের ছেলে জিয়া বাহিনী প্রকাশ জিহাদ (৩০), আদর্শ গ্রামের খবির উদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন (৩০), একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আবু তাহের (২৭), আবুল কালামের ছেলে নবীর উদ্দিন (৩২) ও মিয়াজী গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০)।
সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গতকাল রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া নারীকে বিবস্ত্র করার ঘটনার সংবাদ সঠিক নয়।
তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও নির্যাতনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা জানান, গত ১ জানুয়ারি অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে সন্দেহে স্থানীয় লোকজন এক নারী ও এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করে। মহিউদ্দিন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে পুনরায় আটক করে টেনেহিঁচড়ে কিছু উত্তেজিত জনতা নির্যাতন করে।
এ সময় এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে স্থানীয় ওই পল্লী চিকিৎসক ও একজন গৃহবধূকে মারধর করে। পরে তাদেরকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধেও মারধর করে।
একপর্যায়ে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনাটি তারা মোবাইলে ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই ঘটনায় নির্যাতনকারী পল্লী চিকিৎসক মহিউদ্দিন গতকাল থানায় ১১ জনকে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ তাকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে গত ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার জিহাদ, ফারুক, এনায়েত, ভুট্ট মাঝি ও ফারুক হোসেনকে আসামি করে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করছেন হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম ফারুক।