পায়ের পেশির ইনজুরির কারণে স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনাল খেলতে পারেননি। কিন্তু ফাইনাল তাকে ছাড়া কী করে হয়। অনেক চেষ্টা করে ম্যাচ শুরুর আগে দু’ঘণ্টা আগে নিশ্চিত করেন খেলবেন তিনি এবং প্রথম একাদশেই। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলাবওয়ের কাছে ২-৩ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। কিন্তু তার চেয়েও বড় ক্ষতি করেছেন মেসি নিজেই। খেলা শেষের কয়েক মিনিট আগে বিলবাওয়ের এক খেলোয়াড়ের মুখে চাটি মেরে বার্সা ক্যারিয়ারে প্রথম লাল কার্ড দেখে এখন কয়েক ম্যাচ নিষিদ্ধের শঙ্কায় তিনি। ২০০৪ সালে অভিষেকের পর ৭৫৩তম ম্যাচে এসে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন মেসি।
রবিবারের সেভিয়ার ফাইনালের ঘটনা ১২০ মিনিটে। বিলবাওয়ের অর্ধের মাঝামাঝিতে মেসি সতীর্থের উদ্দেশে বল ছাড়ার পর এগোতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে লেগে থাকা বিলবাও ফরোয়ার্ড আসিয়ার ভিলালিব্রে সামনে গিয়ে তার পথ আটকান। মেজাজ হারানো মেসি ডানহাত দিয়ে মুখে চাটি মারলে পড়ে যান ভিলালিব্রে। রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিয়ে লাল কার্ড দেখান বার্সা অধিনায়ককে।
এর আগে অ্যান্তোইন গ্রিজমানের ৪০ ও ৭৭ মিনিটের গোলে মৌসুমের প্রথম শিরোপার সুবাস পাচ্ছিল বার্সা। টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর একটি শিরোপা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারত। কিন্তু ওই ভিলালিব্রে ৯০তম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বলে বার্সার গোলপোস্টের সামনে থেকে পা ছুঁইয়ে গোল করেন। তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিরোপা স্বপ্ন ভন্ডুল হয় বার্সার। এর আগে ৪২ মিনিটে ফাঁকায় দাঁড়ানো আনমার্ক মার্কোস বিলবাওকে সমতায় ফেরান। এছাড়া রাউল গার্সিয়ার হেড থেকে করা একটি গোল অফসাইডে বাতিল না হলে নির্ধারিত সময়েই জিততে পারত বিলবাও। এ শিরোপা সপ্তাহ খানেক আগে দায়িত্ব নেওয়া বিলবাও কোচ মার্সেলিনো গার্সিয়া তোরালকে আনন্দময় এক সূচনা এনে দিল।
প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ হারিয়ে বিমর্ষ কোম্যান এখন লা লিগার দিকে তাকিয়ে, ‘আমরা এক পা পিছিয়ে গেছি। যে কোনো শিরোপা জেতাই আনন্দের, এর মানে আমরা সঠিক পথে আছি। এই শিরোপা জিতলে ভালো হতো কিন্তু এটা একটা ম্যাচ মাত্র, সুপার কাপ। আমরা আগামী কয়েক ম্যাচেই প্রমাণ করব সঠিক পথে আছি। মেসির খেলার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত। সে এতদিনের অভিজ্ঞ, সে নিজেই জানে কখন খেলতে পারবে আর কখন পারবে না। আজ সে নিজেই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আমার মনে হয় সে শতভাগ দিয়েছে। এর বেশি কোনো বিষয় নিয়ে এখন কিছু বলছি না।’
বিলবাওয়ের তৃতীয় সুপার কাপ। শেষবার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেবার দুই লেগের ফাইনালে বার্সাকেই ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল দলটি। আর ১৯৬০ সালের পর এই প্রথম বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা দুই ম্যাচে হারাল বিলবাও। এবারের সেমিফাইনালে রিয়ালকে তারা হারিয়েছিল ২-১ গোলে।