সরকার চিনিকল বন্ধ করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।
মঙ্গলবার সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের (ভোলা-২) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, কোনো চিনিকল বন্ধ করা হয়নি। চিনিকল বন্ধ করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিল্পমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে ১৫টি চিনিকল রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র একটি মিল- কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড লাভজনক এবং অন্য ১৪টি মুনাফা করতে পারেনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ছয়টি চিনিকলে ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য আখ মাড়াই স্থগিত রাখা আছে।
একই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের চিনি শিল্পকে রক্ষায় চিনিকলগুলোকে আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার দুটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এগুলো বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের অধীনে সরকারি তহবিলের অর্থ থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মো. আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) আরেক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপিতে শিল্প (ম্যানুফেকচারিং) খাতের অবদান ২০০৮-১৯ অর্থবছরের ১৭.৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৪.১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সংসদে মন্ত্রীর উত্থাপিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জিডিপিতে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের অবদান ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১২.৭১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০.২২ শতাংশ হয়েছে।
তবে, ক্ষুদ্র শিল্পের অবদান ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ৫.১৮ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে গত অর্থবছরে ৩.৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সহায়তায় গত ১১ বছরে (২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর) এক লাখ তিন হাজার ২২০টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে সাড়ে আট লাখের মতো।