বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন বিজন কুমার

বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপটমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ) তাকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে অবগত করেছে। 

মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন ড. মহিবুল্লাহ খন্দকার। 

তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সিঙ্গাপুরে বিজন কুমার শীলের কাছে পাঠানো হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই দেশে এসে গণস্বাস্থ্যে যোগ দেবেন তিনি। 

ড. বিজন জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হলেও তিনি আগেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এতদিন বাংলাদেশে তার কাজ করতে অসুবিধা না হলেও জুলাইয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ বলে দেয়, বিদেশি নাগরিক হিসেবে কাজের অনুমতি না নিয়ে তিনি কাজ করতে পারবেন না। 

মহিবুল্লাহ বলেন, সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরোলজি বিভাগে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিজন কুমার। একই সঙ্গে তিনি গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের প্রধান বিজ্ঞানী হিসেবেও কাজ করছিলেন।

এ বিষয়ে তখন ড. বিজন বলেছিলেন, ‘আমি জুলাই থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত আছি। যেহেতু ট্যুরিস্ট ভিসার শর্ত হলো, আমি এখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করতে পারব না। তাই কাজ করছি না।’

ড. বিজন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট ভিসায় আসেন। সেই ভিসার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হলেও বলে দেওয়া হয় যে, দেশে কাজ করতে হলে অনুমোদন লাগবে। 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এরপর বিআইডিএর কাছে তার কাজের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেয়। 

ড. বিজন ২০০২ সালে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেখানকার সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ওই দেশের নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার সিভিল সার্ভিসে চাকরি করতে হলে সে দেশের নাগরিক হতে হয়। আর সিংগাপুরে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান নেই। ফলে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হয়।

এ বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেছি। সে বাংলাদেশের একজন কৃতি বিজ্ঞানী। তাকে আমরা সারাজীবন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাখতে চাই। কিছু লোক নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার ধারণা এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

উল্লেখ্য প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজের অনুমতি চেয়ে বিআইডিএ-তে আবেদন করে। সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই এই আবেদন করে থাকে। ১০ ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয় আবেদনের সঙ্গে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়। 

ড. বিজন কুমার শীলের জন্ম ১৯৬১ সালে নাটোরে। তিনি বনপাড়া সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভেটেরেনারি মেডিসিনে মাস্টার্স করা বিজন কুমার ডক্টরেট করেছেন ইংল্যান্ডের সারে ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৯১ সালে। ওখানে তিনি ১০ বছর কাজ করেন। ২০০২ সাল থেকে তিনি সিংগাপুরের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এনভায়রোনমেন্ট এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। 
সার্স ভাইরাস পরীক্ষার কিটের প্যাটেন্ট ড. বিজন কুমারের নিজের। 

তিনি সিংগাপুরের ন্যাশনাল এনভায়োরোমেন্ট এজেন্সিতে চাকরিরত অবস্থায় ২০০৩ সালে এই কিট আবিষ্কার করেন।