পাওনা পরিশোধের দাবি জুলফার বাংলাদেশের চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস মহামারি কালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ না করে চাকুরিচ্যুতি ও ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এক বছরেও তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি জানিয়ে চাকরিচ্যুতরা বলেন, প্রতিবাদ জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার পুরানা পল্টনের পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনার সাবেক জোনাল ম্যানেজার এ এইচ এস ইউসুফ হায়দার পলাশ। উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহেরসাবেক এরিয়া ম্যানেজার মো. রাশেদুজ্জামান।

তারা বলেন, সংবাদ সম্মেলন করার কথা জেনে জুলফার বাংলাদেশের কর্মকর্তা মঙ্গলবার রাতে ফোন করে হুমকি-ধমকি দেন। কোম্পানির অনিয়মের কথা বাইরে কাউকে বলতে নিষেধ করেন। এরপরও কেউ কিছু বললে তাদের পরিবারসহ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তাদের ভয়ে চাকুরিচ্যুত অনেকে এই সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৭ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে অনৈতিকভাবে কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক চাকুরিচ্যুতি শুরু করে জুলফার বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে গত বছরের ১৩ জুলাই জুলফার বাংলাদেশের শেয়ার বিক্রি করা হয়। বিষয়টি আমাদের কোনো লিখিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়নি। শুধু মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেড সব কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে নতুন গ্রুপের চেয়ারম্যান জুম মিটিংয়ে জুলফার বাংলাদেশের সব কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মর্মে সবাইকে আশ্বস্ত করেন যে, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হবে না। কিন্ত বর্তমানে ওই গ্রুপের চেয়ারম্যানের নির্দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিশোধ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া অন্যান্য বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি যেভাবে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েছে একইভাবে আমাদেরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

তারা বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জুলফার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক নোটিশের মাধ্যমে জানান, জুলফার বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও ইউনাইটেড আরব আমিরাতের জুলফারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে কথা বলেছেন। এ সময় জুলফারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য অর্থ চাওয়া হয়। সেই অর্থ পাওয়া যায় এবং তা দশ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করার কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ওই নোটিশে আরো বলা হয়, কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করলে অথবা মালিকানা হস্তান্তর করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বেতনসহ অর্জিত ছুটি ও দেশি-বিদেশি আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিশ্রুতি নোটিশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বরং অন্যায়ভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই ও বিনা কারণে চাকুরিচ্যুত করে যাচ্ছে জুলফার বাংলাদেশ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মির্জা মুশফিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।