চলে গেলেন রইসউদ্দিন

১০ মাস পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সকালেই চলে গেলেন প্রখ্যাত ক্রিকেট সংগঠক ও প্রশাসক রইসউদ্দিন আহমেদ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ ডিসেম্বর ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানীর একটি হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি ৮২ বছর বয়সে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

১৯৩৯ সালে পুরান ঢাকায় জন্ম রইসউদ্দিন সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলে পড়ার সময়ই খেলাধুলা এবং সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, স্কোয়াশ সব খেলাতেই ছিলেন চৌকস। আয়োজক হিসেবেও ছিলেন দক্ষ। তরুণ বয়সে পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন। পরে পাকিস্তান বাস্কেটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হয়েছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তানে বাঙালি সংগঠকদের প্রতি  বৈষম্য দেখে রইসউদ্দিন  ক্রীড়াক্ষেত্রে বাঙালিদের অধিকার আদায়ে  সচেষ্ট হন। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোয় পাঞ্জাবি, সিন্ধি ও পাঠানদের সঙ্গে বাঙালিদের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন। সেই সময় পাকিস্তান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড ও পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বাঙালি প্রতিনিধি ছিলেন রইসউদ্দিন। পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের দল নিয়ে তখন কারদার সামার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন।

প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগেও খেলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে তিনি পাকিস্তানের কায়েদে আজম ট্রফিতেও অংশ নিয়েছেন। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন রইস। ১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে প্রথম সফরে আসে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। তখনকার ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) তিন দিনের ম্যাচ খেলেছিল তারা। বলা হয় ওটাই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম ম্যাচ। সেই ম্যাচ আয়োজনের প্রধান কারিগর ছিলেন রইসউদ্দিন আহমেদ। তখন তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। চাকরির পাশাপাশি সমান্তরাল ক্রিকেট সংগঠক হিসেবেও কাজ চালিয়ে গেছেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রইসউদ্দিন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন বিসিবির সহসভাপতি। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফির আগে সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই টুর্নামেন্ট জিতে বাংলাদেশ প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অজন করে। ১৯৯৯’র সেই বিশ্বকাপ ও ২০০০-এ দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাবে রইসউদ্দিনের অবদান ভোলার নয়।

রইসউদ্দিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছিল তখন সংগঠক হিসেবে সেবা দিয়েছেন রইসউদ্দিন আহমেদ। তাদের মতো কিছু লোকের নিঃস্বার্থ ত্যাগের কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এখানে আসতে পেরেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে আমি তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাই।’

কাকরাইল সার্কিট হাউস জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় রইসউদ্দিনকে।